স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওয়ানডের পর টি২০তেও তারা বাঘা দলগুলোকে ঘায়েল করতে সক্ষম। এতে চোখ পড়েছে অনেকের। শুরু করেছে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে। তবে এটাও তাদের মনে রাখা ভালো, প্রতিভা থাকলে তা বিকশিত হবেই। আজ না হয় কাল, এমনই তো! সম্প্রতি বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। এটাও বোধ হয় ভালো লাগেনি ওই চক্রান্তকারীদের। টাইগারদের বোলিং-বৃক্ষ থেকে থেকে দুটি ফল ছিড়ে ফেলে তারা। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার আওতায় ফেলে দেয় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পিনার আরাফাত সানি ও ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকে।
সানির বিষয়টা হয়তো তিনি নিজেও মেনে নিয়েছিলেন। সানি জানতেন, তার যে লেভেলে ছিল, তা ঠিক করেই ক্রিকেটে ফিরতে হবে। তবে তাসকিনের বিষয়ে যেটা হয়েছে, তা মানতে পারেননি তিনি নিজে, এমনকি দেশ-বিদেশের ক্রিকেটবোদ্ধারাও। এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দৌড়ঝাঁপ দিলেও তা কাজে লাগেনি। আইসিসি মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিশ্বকাপের সুপার টেনে তাই জোড়াতালি দেয়া একাদশ নিয়েই খেলতে হয়েছে মাশরাফিদের। আজ রোববার সকালে দেশে ফিরেছেন টাইগাররা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা সাংবাদিকদের জানালেন ওই সব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। সঙ্গে যোগ করলেন, তার দল এখন লড়াকু মানসিকতার আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান।
তাসকিন ও আরাফাত সানি দলের বাইরে ছিলেন। এতে সাকিব-তামিমদের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েছিল কিনা? জানতে চাইলে মাশরাফির উত্তর, ‘ওরা (সানি-তাসকিন) দুজনেই দারুণ ফর্মে ছিল, এর প্রভাব দলে থাকাটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে ওদের শূন্যতা অনুভব করেছি।’ অধিনায়কের সংক্ষিপ্ত এই উত্তরেই পরিষ্কার, সুপার টেনে টাইগারদের মনোবল খুব একটা চাঙ্গা ছিল না। মাঠেও প্রতিফলিত হয়েছে তা।
তবে বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে বাংলাদেশ। এতে টাইগার শিবিরে যোগ হয়ে টি২০তে ভালো খেলার লড়াকু মানসিকতা। সেটা ফুটে উঠেছে মাশরাফির ভাষ্যেই, ‘দলের খেলোয়াড়রা বেশ আত্মবিশ্বাসী। আশা করছি, সামনে দল টি২০তে ভালো খেলবে। আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে সেই যোগ্যতা আছে। বিশ্বকাপে কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ হয়েছে। এ ছাড়া এবারের আসর থেকে দলের সবাই দারুণ কিছু শিখেছে, যা ভবিষ্যতে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ভালো খেলতে আমাদের জন্য সহায়ক হবে।’
বিশ্বকাপের মাঝপথে তাসকিন-সানিকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে আইসিসি। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে এ নিয়েও কথা বলেন মাশারাফি, ‘সানির বিষয়টা দেখুন, সে এবং আমরা সবাই এমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম। কারণ সানি নিজেও জানত, তার যে লেভেলে ছিল, তা ঠিক করেই ক্রিকেটে ফিরতে হবে। কিন্তু তাসকিনের বিষয়ে যেটা হয়েছে যে, যেহেতু নরমাল ডেলিভারিতে ঠিক ছিল, আর বাউন্সারে নাকি সমস্যা ছিল। তখন আমরা বিসিবিকে জানিয়েছিলাম যে, কোনোভাবে তাসকিনকে পাওয়া যায় কি না? এমনকি আমরা এভাবেও চেয়েছিলাম যে, যেহেতু বাউন্সারে সমস্যা, তাই বাউন্সার ছাড়া আমরা ওকে খেলাব। সেটাও তো হলো না।’

