ঢাকাWednesday , 16 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিনাজপুরে তুলাচাষের আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

Link Copied!

Dinajpurনিজস্ব প্রতিবেদক : দিনাজপুরের সদরপুরস্থ তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধণ খামারে চুক্তিবদ্ধ/নির্বাচিত তুলাচাষীদের তুলাচাষের আধুনিক প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ থেকে ৯ মার্চ ৩ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালকের প্রতিনিধি উপ-পরিচালক (সদর দপ্তর) ড. মো. তাসদিকুর রহমান। রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বরেন্দ্র এলাকায় শস্য বহুমুখীকরণে তুলাচাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচির কর্মসূচি পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল, উক্ত খামারের কটন এগ্রোনমিস্ট এ এইচ এম কায়কোবাদ, রংপুর অঞ্চলের বীজ উৎপাদন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ রনজিৎ কুমার, কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ মো. ফজলে রাব্বি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খামারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহ আজাদ। প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের চারটি জোনের ৬০ জন চুক্তিবদ্ধ চাষী উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে প্রধান অতিথি চাষীদের পক্ষ থেকে মতামত প্রদানের অনুরোধ জানান। পাবনা জেলার হেমায়েতপুর ইউনিটের তুলাচাষী হাসান আলী সরকারিভাবে বিনামূল্যে কীটনাশক সরবরাহের দাবি জানান। এ সময় তিনি জানান, এ বছর ১৩০ শতক জমিতে তিনি তুলার আবাদ করেছেন এবং গড় ফলন পেয়েছেন ১২-১৫ মণ। আরেক চাষী আলম প্রামাণিক বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক বিনামূল্যে সরবরাহের দাবি জানিয়ে বলেন, এ বছর তিনি ১১৮ শতক জমিতে তুলা চাষ করেছেন। সিরাজগঞ্জের বাজার ভদ্রঘাটের আবু বকর সেখ ১০৬ শতক জমিতে তুলা আবাদ করেছেন বলে জানান এবং গড় ফলন পেয়েছেন ১২-১৪ মণ। বগুড়ার সোনাতলার হাটকরমজার চাষী গোপাল তুলা চাষে লাভবান হয়েছেন বলে জানান। বরেন্দ্র এলাকার আমনুরার বজলুর রহমান তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকাÐে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার এলাকায় তুলাচাষের উপযোগী অনেক জমি রয়েছে এবং সেগুলোকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার আহŸান জানান। এ ছাড়া নওগাঁর মান্দা, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের চাষীরা তুলা চাষে সরকারের আরও সহয়োগিতা কামনা করেন।

প্রধান অতিথি ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা একটি অর্থকরী ফসল এবং এর বাজার ব্যবস্থাপনা অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে আলাদা। তুলা উন্নয়ন বোর্ড বীজ বপন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত চাষীদের পাশে থেকে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। এ ছাড়া সম্প্রসারিত তুলাচাষ প্রকল্প (ফেজ-১), বরেন্দ্র এলাকায় শস্য বহুমুখীকরণে তুলাচাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচির মাধ্যমে চাষীরা কিভাবে উপকৃত হবেন সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলে তামাকের বিকল্প তুলাচাষ, বরেন্দ্র এলাকায় আমনের পরিবর্তে তুলাচাষ এবং চরাঞ্চলে তুলাচাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের তুলার স্বনির্ভরতা বাড়বে তেমনি উত্তর জনপদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে। এ ছাড়া, তুলা উন্নয়ন বোর্ড বিটি কটন চাষ প্রবর্তনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। বিটি কটন প্রবর্তনের মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার কমবে এবং উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রশিক্ষণে তুলার গুরুত্ব, বাংলাদেশে তুলা উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাষীদের করণীয়, বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ এলাকায় তুলা চাষের গুরুত্ব, তুলা ফসলে রাসায়নিক সারের প্রয়োগ মাত্রা, ফলিয়ার স্প্রে, দারিদ্র্য বিমোচানে তুলাচাষের ভ‚মিকা, প্রতিক‚ল আবহাওয়ায় তুলার ভাল ফলন পাওয়ার উপায়, তুলা গাছের কুঁড়ি ও বোল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার, তুলা গাছের বিভিন্ন পর্যায়ে পানির চাহিদা, হরমোন ও গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার ও প্রয়োগ পদ্ধতি, তুলার বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকারক পোকা দমন/ব্যবস্থাপনা ও আইপিএম, তুলা ফসলের খাদ্য উপাদান ও অভাবজনিত লক্ষণ, বিভিন্ন রোগ, মানসম্পন্ন তুলা উৎপাদনের কলাকৌশল ইত্যাদি বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়।