নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘দলে তারেক রহমানের ভূমিকা নির্দিষ্ট করার জন্য বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে’- বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভূমিকাটা কী? সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র? দেশের মানুষ তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আছে। এখন আবার তার বিশেষ কী ভূমিকার জন্য বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে?’
সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর রিপোটার্স ইউনিটিতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘লন্ডনে বসে তারেক রহমান বিএনপি-জামাতের জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশে নৈরাজ্য চালিয়েছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের মানুষের হাজার হাজার টাকা বিদেশে পাচার করেছিলেন দুর্নীতির এ বরপুত্র। তাই বিএনপিতে তারেক রহমানের নতুন কোনো ভূমিকা তো থাকার কথা নয়। তার কুকীর্তি তো দেশবাসী ভালো করেই জানে।’
বিএনপির কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ার জন্য দলটির নেতাকর্মীরা জোর লবিং চালাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বলবো, ছাত্রদলের প্রায় ১০০০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে আপনি যে চমক দেখিয়েছেন বিএনপির কমিটি গঠনেও একই ধরনের চমক দেখাবেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন তাই এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। শুধু এটুকুই বলবো, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাই।’
সাবেক এ পরিবেশমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করেছেন তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব সম্প্রদায় ও বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদরা যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নের অভাবনীয় সাফল্য একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছে সেখানে দুঃখজনক হলেও সত্য- বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী এ উন্নয়ন চোখে দেখলেও স্বীকার করছেন না। তারা সব সময়ই সরকারের সমালোচনায় ব্যতিব্যস্ত।’
সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার জাকির আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা, হাসিবুর রহমান মানিক, সাজাহান সাজু, এম এ করিম, শাহাদাত হোসেন টয়েল ও ফজলুল হক প্রমুখ।

