নিজস্ব প্রতিবেদক : বসুন্দরা গ্রুপের পরিচালক সাব্বির হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তারেক রহমানের একান্ত সচিব (পিএস) মিয়া নূর উদ্দিন অপুকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে অপুর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সঙ্গে ছিলেন সগীর হোসেন লিওন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির । আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।
২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর রমনা থানায় নূর উদ্দিন অপুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাব্বির হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে মামলা করে দুদক । এ মামলায় পরের বছরের ২৪ এপ্রিল তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর অপু আত্মগোপনে চলে যান। জানা যায় এর পর থেকে তিনি মূলত মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ১২ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে গেলে তাকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান মিয়া নূর উদ্দিন অপু। তারেক রহমান ১৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে ফিরে যান। এর চার দিন পর ১৭ জুন ঢাকায় ফেরেন অপু।
পরে তিনি নিম্ন আদালতে ঢাকার বিচারকি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। অপুর আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর অপু হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর সে রুলের শুনানি করে আদালত তা খারিজ করে দেন।
আদালতের নথিপত্রে দেখা যায়, অপু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা দুটি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। একটি রাজধানীর গুলশান থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা। অপরটি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলেকে সাব্বির হত্যা মামলা থেকে বাঁচাতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা। দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।
এর মধ্যে গুলশান থানার মামলায় গত ১৮ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আবেদন করেন অপু। নিজেকে অসুস্থ বলে উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালের চিকিৎসা সনদও জমা দেন আদালতে। শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে অপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষকে বিধি অনুযায়ী আসামিকে চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার আদেশ দেন। এরই প্রেক্ষাপটে তাঁকে কারাগারের হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে কারাগার সূত্র জানিয়েছে।
এর পরদিন ১৯ জুন অপুর আইনজীবী দুদকের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে এ মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত গ্রেপ্তারের আবেদন মঞ্জুর করে জামিনের শুনানির জন্য ২৬ জুন দিন ধার্য করেন। কিন্তু ২৬ জুন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন জামিন বিষয়ে শুনানি করতে প্রস্তুত নন জানিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত ১৪ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এ বিচারাধীন আছে।
এদিকে বিএনপিতে তারেকের অনুসারীদের একটি সূত্র জানায়, মূলত তারেক রহমানের নির্দেশে অপু দেশে ফিরেছেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে দেশে বিএনপির রাজনীতিতে কাজে লাগানোর চিন্তা রয়েছে।
খোঁজখবর করে জানা গেছে, অপুর গোপনে দেশে ফেরা এবং কারাগারে থাকার বিষয়টি বিএনপির বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতাই জানেন না।

