নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে কাউন্সিলের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৯ মার্চ রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২ মার্চ) রাতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে বিএনপিকে এ অনুমতি দিয়েছে।
বৃহ্স্পতিবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।
রিজভী বলেন,‘আমরা কাউন্সিলের জন্য তিনটি স্থান (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) চেয়ে আবেদন করেছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সেখানে আমরা কাউন্সিল করতে পারব।’
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পুলিশের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে, পুলিশকে অবহিত করা। আমরা ১৯ মার্চের কাউন্সিল ও ভেন্যুর বিষয়ে আগেই পুলিশকে অবহিত করেছি। আবারও করব। আরও নিয়ম হচ্ছে, কোনো সভা কিংবা অনুষ্ঠানের বিষয়ে মূল কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া।’
কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিলের অনুমতি পাওয়ায় এখন এই স্থানকে ঘিরে আমাদের কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হবে। এ লক্ষ্যে কাউন্সিলের জন্য গঠিত উপ-কমিটিগুলো শুক্রবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ও প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবে।
‘এ ছাড়া কাউন্সিলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হানান শাহ’র নেতৃত্বে শৃঙ্খলা ও সেবা উপ-কমিটির সভা হবে। এ ছাড়া একই স্থানে বিকেল ৪টায় আহ্বায়ক দলের অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামের নেতৃত্বে আপ্যায়ন উপ-কমিটির সভা হবে।’
জানা গেছে,বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ছাড়াও এর সামনের প্রাঙ্গণ, পূর্ব দিকের সামনের সড়ক, সেমিনার হল, পেছনের মাঠ অর্থাৎ নতুন ভবনের সামনের মাঠও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল টেনিস মাঠটি ছাড়া আশপাশের পুরো জায়গাই বিএনপি ব্যবহার করতে পারবে। বরাদ্দ করা সামনের পূর্ব দিকের প্রাঙ্গণে মঞ্চ নির্মাণ করা হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বুকিং চেয়ে গত ২৪ জানুয়ারি চিঠি পাঠায় বিএনপি। তবে ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না’ এমন যুক্তি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিএনপিকে অপারগতার কথা জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে কাউন্সিল করা যাবে বলে বিএনপিকে চিঠি দিয়ে জানায় সরকারের গণপূর্ত বিভাগ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলের তিনটি ভেন্যুর একটি হিসেবে আমরা আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছিলাম। কিন্তু ভেন্যু হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের অনুমতি পাওয়ায় আমরা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি,আসাদুল কবির শাহীন,তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

