
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে আয়োজিত মৌ-মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক : মধু চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে আজ রোববার শুরু হয়েছে ৩দিনব্যাপী মৌ-মেলা। মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পমন্ত্রী মো. আমির হোসেন আমু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। এ ছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ মো. আবদুল মান্নান বক্তব্য রাখেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, উদ্ভিদের পরাগায়নে মৌমাছির ভূমিকা অপরিহার্য। মৌচাষের ফলে কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা ১০-২০ ভাগ বেড়ে যায়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২০১২-২০১৭ মেয়াদে ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে; ৪,৩৭০ জন মৌচাষিকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে এবং বিসিক হতে ৯% সরল সুদে তাদের ঋণ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্লোভেনিয়ার মধু উৎপাদনকারী ও বিপনকারী প্রতিষ্ঠান মেডেক্স-এর সাথে বিসিকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাড়াতে গুণগতমানের মধু উৎপাদনে জোর দিতে হবে। মধু সংগ্রহে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগসহ প্যাকেজিংয়ে আধুনিকতা আনতে হবে। বিসিক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌচাষের উপকারিতা সম্পর্কে চাষিদের সচেতন করে মৌচাষ সম্প্রসারণ ও মধু উৎপাদনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মৌ-মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমানসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ
মতিয়া চৌধুরী বলেন, আগে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর প্রথম মুখে মধু দেয়া হতো, কিন্তু এখন এ ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। আমরা খাদ্য তালিকায় মধু রাখি না, আছে ওষুধের তালিকা। তিনি এ সময় বলেন, তেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। আর তেল উৎপাদন বাড়াতে হলে সরিষা, তিল, তিসি এসব হতে তেল আহরণ করতে হবে; ফলে মৌচাষের বিস্তার ঘটাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, মধুচাষী, আহরণকারী এবং ব্যবসায়ীদের সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। এ সময় তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মৌচাষি ও মধু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আনোয়ার ফারুক বলেন, প্রাকৃতিক খাদ্যের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য মধু। মধু চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ, যেসব ফসল ও ফলে মধু চাষের সম্ভাবনা আছে সেসব ফসল ও ফলের চাষ বাড়ানো, মধু চাষি ও বাজারজাতকারীর মধ্যে সমন্বয়, প্রচলিত মৌ চাষের গতি বাড়ানো, শস্যের সঙ্গে মধু চাষ যুক্ত করাসহ নানা লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ সরিষা চাষ হয় তার তুলনায় আমরা মাত্র ২০ শতাংশ মধু আহরণ করতে পারি। ৮০ শতাংশ মধু আহরণ করা হয় না। এ কারণে ক্ষুদ্র চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধু আহরণ ও চাষের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলে আমরা মধু রপ্তানি করতে পারবো। একই সঙ্গে মধু উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে চিনি আমদানিও কমে যাবে।
মৌ-চাষ সম্পর্কে বিসিকের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৌচাষ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খোন্দকার আমিনুজ্জামান।
‘মিলবে পুষ্টি বাড়বে ফলন, আয় বাড়াবে মৌ পালন’ প্রতিপাদ্যের এ মেলায় ৩৬টি স্টল রয়েছে। উদ্বোধনের পরপরই মেলায় প্রচুর দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা সরিষা, ধনিয়া, তিল, কালিজিরা, লিচু এসব ফসলে মৌ-চাষ, মধু আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাচ্ছেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা। মেলা আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

