ঢাকাSaturday , 27 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীর খামারবাড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে মৌ-মেলা

Link Copied!

মৌ-মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার ফারুক

মৌ-মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে মধু উৎপাদন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হচ্ছে মৌ-মেলা। মেলার প্রতিপাদ্য-‘মিলবে পুষ্টি বাড়বে ফলন, আয় বাড়াবে মৌ পালন’। আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে বলে জানা গেছে।
প্রথমবারের মতো মৌ-মেলা উপলক্ষে আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, মধু প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ বহুগুণে গুণান্বিত একটি উপাদান। বাংলাদেশে সাধারণত সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ ও বাজারজাত করে থাকেন। পাশাপাশি পেশাদার মৌচাষিগণ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষা, ধনিয়া, তিল, কালিজিরা, লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে বা বাগানে মৌবাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৬ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়, ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কালিজিরা, ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধনিয়া, ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তিল এবং বিপুল পরিমাণ জমিতে লিচু উৎপাদিত হয়। যেখান থেকে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে দারুনভাবে সহায়তা করে এবং বিপুল পরিমাণ মধু আহরিত হয়। তিনি জানান, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে মধু রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৫০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, যে পরিমাণ সরিষা ফুল ফোটে তা থেকে আমরা মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ মধু আহরণ করতে পারছি। কৃষিমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত বছর নভেম্বর মাস থেকে মৌচাষ সম্প্রসারণে সহায়কের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)’র মৌচাষ সংক্রান্ত মধু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক একটি প্রকল্প চালু রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৌচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ গুণগত মানসম্পন্ন মৌবাক্স সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিসিকের এই প্রকল্পের সাথে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথ কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। কর্মকাণ্ডের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে মৌচাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ১২০ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে উইন্ডরক ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মি. ডেভিড এনগলার স্টিফেনের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় এ বছর আরো ১৮০ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলেও জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে মেলা উদ্বোধন করবেন শিল্পমন্ত্রী মো. আমির হোসেন আমু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। মেলায় কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ বিসিক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌখামারিসহ বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তগণ অংশগ্রহণ করবেন। মেলায় ৩৪টি স্টল থাকবে। মেলার প্রতিপাদ্য-‘মিলবে পুষ্টি বাড়বে ফলন, আয় বাড়াবে মৌ পালন’ বিষয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের অডিটরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, মৌ চাষী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।