নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বর্তমান সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর দুর্নীতি ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিতের কথা উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ নগর ভবনের সামনে বিশাল জনসভায় অনেক কথা বলবো। তারপর করবো। আর করতে যে পারি তাও দেখাবো।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলাম স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে কয়েকশ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আইভীর প্রিয় বন্ধু সুফিয়ান যিনি মদ ও মেয়েসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার নামে পদ্মা ভবনে ১৭টি দোকান। দুর্নীতি করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে এখন বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙানো হচ্ছে। দুর্নীতি ঢাকতে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দায় ইকোপার্কের নাম পাল্টে শেখ রাসেল পার্ক ও আইভী নিজের বাবার নামের সাইনবোর্ড সরিয়ে রেলওয়ের জায়গা দখল করতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা নামে হাতিরঝিল আদলে পার্ক করতে চাইছেন।’
শামীম ওসমান আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রথম আলোর গোলটেবিলে বসে বলেছেন- নেত্রী সন্ত্রাসী পালেন। যুগান্তরের গোলটেবিলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে বলেছেন- বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন পিঠ বাঁচাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোদ্ধা হতে চান?’
আইভীকে তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে উপাধি দেন যে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র চান। আর শেখ হাসিনা গণতন্ত্র রাখতে চেষ্টা করেন। সব আমলেই সব জায়গায় বেঈমান ছিল। আমাদের নারায়ণগঞ্জেও আছে। যেমন খন্দকার মোশতাকরা ছিল। ঠিক নারায়ণগঞ্জেও খন্দকার মোশতাকদের দল আছে। তাদের মুখোশ খুলে দেবো। সুযোগ পেলে নৌকায় আগুন ও পাল ছিড়তে চান। আর বিপদে পড়লে নৌকার পালে হাওয়া দিতে চান, তা হবে না। আগামী ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ভবনের সামনের খালি জায়গায়। সেখানে লক্ষাধিক লোকের সামগম ঘটানো হবে।’
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সেইদিন অনেক কথা বলবো। আপনারা শুনবেন। বলবো, আর যা বলবো তা করে দেখাবো। আপনারা দেখবেন কথা বলছি আর যা বলছি তা করে দেখাবো।’
দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে শামীম ওসমান বলেন, ‘৭৫-এর পর থেকে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও নৌকার সঙ্গে যারা বেঈমানী করেনি তাদের সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। আপনারা হতাশ হবেন না।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুবলীগ নেতা আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, আওয়ামী লীগ নেতা শওকত আলী, মজিবর রহমান, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইসরাত জাহান স্মৃতি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ।

