নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলকে ঘিরে পুরোদমে কাজ চলছে। আর এ উপলক্ষে ঢাকায় সাজসজ্জার জন্য দুই সিটি করপোরেশনের কাছে অনুমতি চেয়েছে দলটি।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কথা জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ইতোমধ্যে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গঠিত উপ-কমিটিগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। প্রচার ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি, শৃঙ্খলা ও সেবা উপ-কমিটি, ড্রাফটিং উপ-কমিটি, প্রকাশনা উপ-কমিটি ইতোমধ্যে সভা করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে প্রচার-প্রচারণার জন্য সড়ক-মহাসড়কের বিভাজক, লাইটপোস্ট ও সড়কদ্বীপে ফেস্টুন টাঙানোর জন্য অনুমতি পেতে সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রদের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘৭৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ মার্চ। কলঙ্কিত প্রহসনের ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এর একতরফা নির্বাচনের যে মডেল খাড়া করেছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার এবং তার দোসর নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে তারা প্রতিটি নির্বাচনে সেই মডেলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছে। এই ইউপি নির্বাচনেও যে ভোট ডাকাতিসহ আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশের যৌথ তাণ্ডব দৃশ্যমান হবে তার সকল আলামত শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুরে পটুয়াখালী জেলাধীন বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জব্বার মৃধার সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় পঞ্চাশ জনকে আহত করেছে। এদের মধ্যে ৮ জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দুইটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।’
‘গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা লোপ পাচ্ছে। তাই নিষ্পাপ শিশুরাও এই দুঃশাসনের করাল গ্রাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এইভাবে ভোটারবিহীন সরকার আমাদের সমাজকে অনৈতিকতা আর অধপতনের লাস্ট চ্যাপ্টারে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। এই দেশকে শান্তি, সুস্থিতি ও স্বস্তি দিতে হলে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

