নিজস্ব প্রতিবেদক : ভালোবাসতে জানা মানুষগুলোর কাছে ভালোবাসা দিবসের গুরুত্ব অনেক। তাই এই ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে অনেকের জল্পনা-কল্পনার অন্ত থাকেনা। বিশেষ করে প্রিয় এই দিবসটিতে ভালোবাসার মানুষটিকে কি উপহার দিবেন, এই দ্বিধা অনেকের মাঝেই চিন্তার কারণ হয়ে যায়।
ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রিয় মানুষকে আপনি যেকোনো কিছুই উপহার দিতে পারেন। সেই উপহারটি হতে পারে আপনার বা আপনার সঙ্গিনীর প্রিয় কোনো পছন্দ। তবে সব কিছুর উপরে আপনি তাকে বিভিন্ন ধরনের বই উপহার হিসেবে দিতে পারেন। কারণ বই হচ্ছে প্রাণের প্রতীক।
উপহার হিসেবে প্রিয় লেখকের বই যেমন আপনার ব্যাক্তিত্ত্বকে তুলে ধরবে। তেমনি সঙ্গিনীর বইয়ের তাকে সেই বই আপনার অবস্থানকে দৃঢ় করবে।
ভালোবাসা দিবসে শুধু সঙ্গিনীকে নয়, ভালোবাসেন এমন অনেককেই বই উপহার দিতে পারেন। ঘরে বাবা-মা থেকে শুরু করে কাছের আত্মীয়, ছোট ভাই-বোন, প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীদেরকেও তার প্রিয় লেখকের বই উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন।
তবে উপহার হিসেবে বই দিতে চাইলে অবশ্যই একটু বিবেচনা করে নিতে হবে। যার জন্য যে বই উপযুক্ত তাকে ঠিক সেই বইটি উপহার দিলে তা বেশ অর্থবহ হবে। নইলে কাজে না আসা বইটি নিছক বুকসেলফ দখল করে বসে থাকবে।
এবারের একুশে বইমেলায় বই কিনতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল আইন বিভাগের ছাত্র শিহাবুর রহমান সেজান বলেন, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে তিনি তার সঙ্গিনীকে বই উপহার দিবেন। ভালোবাসার মানুষের জন্য এর থেকে বড় কোনো উপহার হতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপহার হিসেবে শিশুদের জন্য বই নির্বাচন করতে গেলে রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, বিভূতিভূষণ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, মোহাম্মদ নাসির আলী, সাজেদুল করিম, শাহরিয়ার কবীর, মুহম্মদ জাফর ইকবালদের বই বেছে নিতে পারেন। ফেলুদা আর প্রফেসর শঙ্কু নিয়ে যে রাজত্ব তৈরি করেছেন সত্যজিৎ রায়, তাও সংগ্রহ করতে পারেন।
এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের জন্য জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, চার্লস ডিকেন্স, মার্ক টোয়েন, ভিক্তর উগো, আলেকজান্ডার দ্যুমা, রোয়াল্ড ডালও উপহার দিতে পারেন। একালে জে কে রাউলিং, জন গ্রিন, খালেদ হোসেইনি, ভেরোনিকা রথের বই সংগ্রহ করতে পারেন।
শিশুদের পাশাপাশি সচেতন ও জ্ঞানী মানুষের কাছে বই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। আপনি কত টাকার মধ্যে বই কিনে দিলেন তা কখনো বিবেচ্য হয় না। বরং আপনি কত ভালো বই উপহার দিলেন সেটাই হলো বিবেচ্য। আর এ জন্যই বলা হয়, বই হচ্ছে অমূল্য উপহার। তাই বড়দের প্রিয় লেখকের বইটি সম্পর্কে কৌশলে জেনে নিন।
মনে রাখা উচিৎ, একটি বই যেমন একজন ব্যক্তি সারা জীবন ধরে পড়তে পারে, তেমনি তার মৃত্যুর পরও তার বংশধররা পড়তে পারে। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সেই বইটি পড়তে পারে। অর্থাৎ বই কখনো মরে যায়না। আর তাই গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, বইয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উপহার আর কিছু হতে পারে না।
তাই আপনিও উপহার হিসেবে বেছে নিন প্রিয় লেখকের প্রিয় বইটি। বইমেলার থেকেই বইগুলো কিনতে শুরু করুন আর আপনার উপহারটিকে করে তুলুন অমূল্য। শুধু বইমেলা নয়, সারাবছর প্রকাশিত হয় সৃজনশীল বই। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে বইয়ের মার্কেট। এসব মার্কেট থেকে সারাবছর কেনা যাবে ভালো বই।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বইয়ের সঙ্গে প্রিয় সঙ্গিনীর জন্য কয়েকটি গোলাপ, ছোটদের জন্য কয়েকটি চকলেট, বড়দের জন্য কলম বা ভালোমানের একটি ডায়েরি যোগ করে নিন। দেখবেন উপহার পেয়ে তারা বেশ খুশি হবে।

