নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা দেয়ার মাধ্যমে তাদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বেগম খালেদা জিয়ার আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এই কাজটি হাতে নেবে কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল আয়োজিত এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন গয়েশ্বর।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের প্রতিবাদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন- ৩০ লক্ষ নিয়ে মতভেদ আছে। আমি আজকে নেত্রীর পক্ষ থেকে বলে যাচ্ছি, আপনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) না করলেও আমরা ক্ষমতায় আসলে গুণে গুণে শহীদদের তালিকা প্রকাশ করবো।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে যথাযথ মর্যাদা, শিক্ষা এবং জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার আগে আপনি কি এই কাজ শুরু করবেন? যদি না করেন তাহলে দুর্ভাগ্য।’
শহীদের সংখ্যা নিরূপণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এজন্য তিনি একটি কমিশন গঠন করেছিলেন। তার দুই সদস্য এখনো জীবিত আছে। তার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ইচ্ছা ছিল শহীদের সঠিক তালিকা করে তাদেরকে ভাতা দেয়া। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান, তাহলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন না কেন? সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে গা জ্বালা করার তো কোনো কারণ নেই। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যা বলেছেন যথার্থ বলেছেন।’
অবসরের পর রায় লেখা ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যে মন্তব্য করেছেন তা সঠিক বলে মনে করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তার (প্রধান বিচারপতি) ওই বক্তব্যের পর তাকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো কি আদালত অবমাননা হয় না?’
সরকার উন্নয়নের নামে নিজেদের পকেট ভরছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চেয়েছে। তবে সিঙ্গাপুর না বানাতে পারলেও আজিমপুর বানাতে পেরেছে। কারণ আজিমপুর কবরস্থানের মতো ঢাকার রাজপথেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়ন শুধু ঢাকায়, গ্রামে উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও নেই।’
দলের নেতাকর্মীদের আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘রাজপথে না থেকে এসি রুমের ভেতরে বসে থাকলেও মামলা হবে। তাই মামলার ভয় পেয়ে লাভ নেই। রাজনীতি করতে হলে মামলা হবে, জেলে যেতে হবে- এটি স্বাভাবিক। সম্পদ ও নিজেদের রক্ষায় যারা আঁতাত করবেন একদিন তাদেরকে ধরা পড়তেই হবে। সেদিন খালেদা জিয়া ক্ষমা করলেও কর্মীদের আদালতে বিচার হবে, তারা ক্ষমা করবে না।’
সারা দেশের জেলায় জেলায় যুবদলের আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে ঘরে-বাইরে নেত্রীর (খালেদা জিয়া) একটি চাবুক দরকার। যুবদলকে সেই চাবুক হতে হবে।’
গণতন্ত্র নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে তা খুঁজে বের করতে নেতাকর্মীদের কৌশল বের করার পরামর্শ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমেদ মিলনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

