কৃষি ডেস্ক : আমরা কামরাঙা বলতেই কিছুটা টক কিছুটা মিষ্টি স্বাদের কথা ভাবি। গ্রাম বাংলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কামরাঙা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এ ফলের স্বাদ কিছুটা টক-মিষ্টি। কিন্তু থাই জাতের কামরাঙার স্বাদ মিষ্টি। এই মিষ্টি কামরাঙা অতি সহজেই ছাদে টবে সহজেই চাষ করা যায়। ফলনও খুব ভালো হয়। একটি থাই মিষ্টি কামরাঙার কলমের চারা থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব। সারা বছরই কমবেশি ফল গাছে থাকে তবে জুন-জুলাই এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বেশি পরিমাণে ফল পাওয়া যায়। ছোট টব এমনকি ১২ ইঞ্চি টবেও এর চাষ করা সম্ভব। যেকোনো মাটিতেই মিষ্টি কামরাঙার চাষ সম্ভব। কামরাঙার রোগ-বালাই খুবই কম।
চাষ পদ্ধতি : ছাদে কামরাঙার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫টি ছিদ্র করে নিতে হবে। যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার, একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন।
এরপর মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে। যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে। চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়। চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে। সেইসঙ্গে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে। একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে। আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে আবার বেশি শুকিয়েও না যায়। কামরাঙার গাছে পানি বেশি হলেও পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে ঝরে যায় আবার পানি একদম শুকিয়ে গেলেও একই অবস্থা হয়।
পরিচর্যা : গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পর পর সরিষার খৈলপচা পানি দিতে হবে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৬ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে। গাছের মরা ডাল কেটে দিতে হবে। অধিক ফলন পেতে হলে প্রতিবছর একবার ডালগুলি কেটে গাছকে ছোট রাখতে হবে। ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টবের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দেয়া প্রয়োজন।
এছাড়া আগেই জানিয়েছি যে এ গাছের রোগবালাই খুবই কম হয়। তাই সঠিকভাবে পরিচর্যা করুন ও বিষমুক্ত ফল নিজে উৎপাদন করে পুষ্টির চাহিদা মেটান।
তথ্য: সংগ্রহ

