
মাহফুজ আনাম ও মাহবুব উল আলম হানিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘শুধুমাত্র ভুল স্বীকার করে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। আমরা আপনার কাছ থেকে আরো স্পষ্ট বক্তব্য চাচ্ছি।’
রোববার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন হানিফ।
এর আগে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ সভা হয়।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, আবু সাইদ আল মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বীর বাহাদুর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই না করে শেখ হাসিনার দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপানো প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এই চরম অনৈতিক কাজ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, সম্পাদক সাহেবরা অনেক সময় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশীদার হিসেবে কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ডেইলি স্টারের সম্পাদক সাহেব একটি টকশোতে নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি কোন যাচাই বাছাই না করেই সংবাদটি প্রকাশ করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়েছে, ১/১১ এর সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা একটা অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের এ নেতা আরও বলেন, ‘ওই সংবাদ ছাপানোর কারনণই কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় বিনা অপরাধে ১১ মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল। এই ঘটনার প্রায় আট বছর পরে ডেইলি স্টারের সম্পাদক সাহেব স্বীকার করলেন তিনি ভুল করেছেন।’
‘কিন্তু এক ভুলের জন্য দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, গোটা বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর যে সম্মান ক্ষন্ন হয়েছে এ দায় ভার এড়ানোর কোন সুযোগ তার নেই। আমরা আশা করছি ওনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বা দলীয়ভাবে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় হয়ত আমরা তা পরিবর্তিতে আপনাদের (সাংবাদিকদের) জানাতে পারবো।’
এ সময় তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদকদের একসঙ্গে বসে সভা করে প্রার্থী বাছাই করে অতি দ্রুত কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানান।
এছাড়া যারা পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিল তারা ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারবে না। আর যারা ইউপি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করবেন তাদের দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। আর সেটি হলো দল থেকে বহিষ্কার।

