ঢাকাFriday , 5 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান নাস্তিক

Link Copied!

islami-oykjotনিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ফয়জুল্লা বলেছেন, ‘আমরা জানি আপনারা ধর্মের বিরুদ্ধে; আপনারা ইসলামের বিরুদ্ধে; কুরআনের বিরুদ্ধে। কিন্তু বাংলাদেশ ইসলামের দেশ; মুসলমানের দেশ। এই দেশে নাস্তিক মুরতাদের ঠাঁই হবে না।’
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরে গেটে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামিয়া ইউনুছিয়া ও নারায়ণগঞ্জ মক্কীনগর মাদরাসায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারাদেশের উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানী বন্ধ, হত্যা, খুন, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর এই সমাবেশের আয়োজন করে।
কওমী মাদ্রসা নিয়ে নৌ মন্ত্রী শাজাহান খানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালেচনা করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আরো বলেন, ‘শাজাহান খান সাহেব, আপনি জাসদের রাজনীতি করেছেন, এখন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে জাসদের রাজনীতি আওয়ামী লীগকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।’
শাজাহান খান ছাড়াও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামেরও কঠোরসমালোচনা করেন মুফতি ফয়জুল্লাহ। তিনি কামরুল ইসলামকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘একজন মন্ত্রী, কশিনার ইলেকশন করেছিলেন, নাম না কি তার কামরুল। মানুষ বলে পচা গম। প্রধানমন্ত্রীর করুণায় মন্ত্রী হয়ে, মুসলমানদের আঘাত করবেন, কওমি মাদরাসার উপর আঘাত করবেন, কুরআনের উপর আঘাত করবেন, আবার মন্ত্রী হিসেবে থাকবেন, এটা বাংলার মাটিতে হতে পারে না।’
এসময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য রবিউল মোক্তাদিরকে বহিস্কারের দাবি জানান।
মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘যারা কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে কথা বলে, ওরা মূলত কুরআনের বিরুদ্ধে কথা বলে। কারণ কওমি মাদরাসায় কোরআন শিক্ষা দেয়। আল্লাহর ঐশীক দানের শিক্ষা দেয়। যারা কোরআনের বিরুদ্ধে কথা বলে ওরা মুসলমান না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির পক্ষে, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। আমরা নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধে সংসদে আইন পাশ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না। কিন্তু আমাদের মাদরাসা-মসজিদে হামলা করে নিরীহ ছাত্রদের হত্যা করে আমাদের উপর আঘাত করা হয়েছে। এভাবে একের পর এক আঘাত করা হবে আর আমরা নিশ্চুপ বসে থাকবো, তা হতে পারে না।’
তিনি খুন,হত্যা, হামলা-মামলা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের পক্ষে থাকবে।
গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন জনগণ মেনে নেয়নি। সাংবিধানিকভাবে এই নির্বাচন শুদ্ধ হলেও জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই অবিলম্বে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশকে শান্ত করুন।’
জোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ আর জিহাদ এক নয়। জেহাদের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়, আর সন্ত্রাসের মাধ্যমে অন্যায় অবিচার ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা হয়। জেহাদ করা ফরজ। সন্ত্রাস নির্মূল করাও ফরজ। অথচ বর্তমানে জেহাদকে সন্ত্রাসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।’
পুলিশ বাহিনীর যে সব সদস্যের কারণে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান হাসানাত আমিনী।
ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা মঈনউদ্দিন রুহী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা জুনায়েদ গুলজার, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতী সাইফুল ইসলাম, রিয়াজাতুল্লাহ, আনছারুল হক ইমরান, মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাংতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়, হাউজ বিল্ডিং, দৈনিক বাংলার মোড় হয়ে পুনরায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে গিয়ে শেষ হয়।