নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারের এমপিরা দুর্নীতি ও লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাসভবনে হামলা ও যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দেশে দুর্দিন চলছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। সর্বত্র লুটপাট চলছে। পাশাপাশি দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। তবে বিএনপির জন্য দুর্দিন নয়। বিএনপি আগেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় আসবে।’
তিনি বলেন, ‘এমপিদেরকে এলাকায় এলাকায় দুর্নীতিমুক্তভাবে উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি তাদেরকে সতর্কও করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারের এমপিরাই দুর্নীতি-লুটপাট করছে। তারা রাস্তার নকশা তৈরি করে রাস্তা না বানিয়ে সমস্ত টাকা নিয়ে নিচ্ছে। প্রয়োজনে পুলিশকে মারছে, প্রশাসনের লোকদের গায়ে হাত দিচ্ছে। তাদের জন্য কোনো আইনই নেই। অন্যদিকে বেআইনিভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-নির্যাতন হচ্ছে।’
নোমান বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্র বাদ দিয়ে এখন উন্নয়নের কথা বলছে। তারা বলছে, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র। স্বৈরাচাররা এটি বলে। তারা ক্ষমতায় এসেই বলে, দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি, সুতরাং উন্নয়নই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। এটি আইয়ুব-ইয়াহিয়া-এরশাদের গলার সুর। সেই একই সুরে শেখ হাসিনা এখন হারমনিয়াম বাজাচ্ছেন।’
সরকার বিএনপির কাউন্সিল বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে কাউন্সিলকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা করছে সরকার। তবে তাদের চেষ্টা সফল হবে না। যথাসময়ে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায়ই হোক না কেন, সম্মেলনটা আমাদের করা প্রয়োজন। নেত্রীর কাছে দাবি করবো, ইতোমধ্যে যারা তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে নিজেদের সাহসীযোদ্ধা প্রমাণ করেছেন, যারা প্রমাণ করেছেন যে, তারা মৃত্যুকে ভয় পায় না, সাংগঠনিকভাবে সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান, তারাসহ অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের নিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা সাহসিকতার সাথে চলমান আন্দোলনকে বেগবান করবে, নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’
যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সম্পাদক কাজী রফিকের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, যুবদল সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, ফজলুর রহমান প্রমুখ।

