রংপুর প্রতিনিধি : দিগন্ত জুড়ে হলুদের সমারোহ। যেন চারদিক জুড়ে সরিষায় ভাসছে, সরিষায় হাসছে। এবার রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। ৪ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হওয়ায় ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪-১৫ সালে রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৬৩২ হাজার হেক্টর। আর ওই বছরের সরিষা চাষে অর্জিত হয়েছে ৩০ হাজার ৯৫৯ হেক্টর জমি। এর মধ্যে রংপুর জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৫ হাজার ৩৮৮ হেক্টর আর অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে।
গাইবান্ধা জেলায় সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমি এবং অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে। কুড়িগ্রাম জেলায় ১০ হাজার ৭ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ২১ হেক্টর।
লালমনিরহাট জেলায় সরিষা চাষে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ২২ হেক্টর জমি এবং অর্জিত হয়েছে ১৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। নীলফামারী জেলায় সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্র ছিল ২৩ হাজার ৩৬ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে।
এদিকে, চলতি ২০১৫-১৬ সালে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রংপুর জেলায় ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর। গাইবান্ধা জেলায় ৭ হাজার ৭০ হেক্টর জমি। কুড়িগ্রাম জেলায় সরিষা চাষে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ২২১ হেক্টর জমি।
লালমনিরহাট জেলায় ১৬ হাজার ২২ হেক্টর জমি এবং নীলফামারী জেলায় সরিষা চাষে জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৪ হেক্টর জমি।
বর্তমান বাজারে দেশি সরিষা মণপ্রতি বিক্রয় হচ্ছে এক হাজার তিনশ টাকা। রাই সরিষা প্রতি মণে এক হাজার টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
তবে কৃষকরা বলছেন, দেশি সরিষার তেলের গুণগত মান ভালো থাকায় বাজারে এর মূল্য আরো বেশি। লালমনিরহাট জেলার আদিতমারীর বড় কমলাবাড়ী গ্রামের আহম্মদ আলী জানান, এই থানার সব কয়েকটি ইউনিয়নের চরে ব্যাপক পরিমাণ সরিষা চাষ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের জয়হরি গ্রামের কৃষক বুলবুল জানান, ধানের দাম কম থাকায় লালমনিরহাটে বেশিরভাগ মানুষ সরিষাসহ আলুর আবাদ করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘সরিষা চাষে খরচ কম এবং রোগবালাই কম হয়। আলু চাষের মতো সরিষায় প্রতিনিয়ত কীটনাশক স্প্রে করতে হয় না। এছাড়াও সরিষা চাষের জমিতে আগাছা না থাকায় ইরি বোরো ধানের আবাদ ভালো হয়।’
এদিকে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরের হরিনাগ্রামের বেলাল হোসেন জানান, এ বছর সরিষা আবাদ ভালো হয়েছে। সরিষার জমিতে পোকামাকড় এবং রোগবালাই কম আসে ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সরিষা তোলার পর একই জমিতে ইরি বোরো ধানের আবাদ তুলতে কৃষকের খরচ কম লাগে।
কুড়িগ্রাম জেলা চিলমারী উপজেলার অষ্টমিচর ইউপির গাটিয়ার চর এলাকার সোহরাব আলী জানান, বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় এখন কৃষকরা সরিষা ও আলুসহ সবজি চাষ করছে। এছাড়াও সরিষা চাষ করতে তেমন কোনো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। একই জমিতে অল্প চাষ করে ধানের আবাদ তোলা যায়। এই বছর কুড়িগ্রাম জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এখানে রাই সরিষার আবাদ বেশি হয় জানান তিনি।
রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, বর্তমানে কৃষকরা ধানের পাশাপাশি রবিশস্য করছে। বাজারে ধানের দাম ভালো না থাকায় বেশির ভাগ কৃষকই আলুসহ সরিষা চাষ করে খরচের টাকা পুষিয়ে তুলছে।
তিনি জানান, চরে পলিমাটি বেশি থাকায় চরাঞ্চলে সরিষার চাষ ভালো হয়। সরিষা থেকে শুধু তেল নয়, জ্বালানিও পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমি থেকে সরিষা কর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

