ঢাকাWednesday , 27 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রংপুরে আলুতে আশার আলো

Link Copied!

Rangpurরংপুর প্রতিনিধি : এবার বৃহত্তর রংপুরের চার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বড় ধরনের কোনো রোগবালাই না থাকায় উৎপাদন এবং বর্তমান বাজারে আলুর দাম ভালো থাকায় চলতি আলুতেই আশার আলো দেখছেন চাষীরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানান, রংপুর অঞ্চলে ২০১৫-১৬ সালে আলু চাষে জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ হাজার ৯২১ হেক্টর  জমি। যা এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৯৪ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। ফলে এ বছর আলুর আবাদ টার্গেটের চেয়ে বেশি হয়েছে। তাই আলুকে ঘিরেই এবার আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের আলু চাষীরা।
এ বছর আবহাওয়া ও আলুর দাম ভালো থাকায় বিগত বছরের লোকসান পুষিয়ে তোলা যাবে। উত্তর অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের আলু আবাদ হয়। এর মধ্যে কার্ডিনাল, গ্রান্যুলার, লেডি রোসেটা, ক্যারেজ, ডায়মন্ড, শীল আলু, পাকড়ি আলু, লাল সাদা, ধরেয়া এবং ঝাউ আলু।
বর্তমান বাজারে কার্ডিনাল আলু প্রতি বস্তা ৮৪ কেজি বিক্রয় করা হচ্ছে ৮৪০ টাকা। দেশীয় কুপড়ি আলু প্রতি বস্তা ৮৪ কেজি ১ হাজার ৩শ টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে। গ্রান্যুলার আলু প্রতি বস্তা ৮৪ কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৬৩০ টাকা ও ডায়মন্ড আলু প্রতি বস্তা ৮৪ কেজি ৮৯৫ টাকা।
এদিকে, ২০১৪-১৫ সালে উত্তর অঞ্চলে আলু চাষে জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৮ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমি। এর মধ্যে আলু অর্জিত হয়েছে ৯১ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে। রংপুর জেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৪৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।
গাইবান্ধা জেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি, এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে।
কুড়িগ্রাম জেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ২৭৩ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতে। লালমনিরহাট জেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে।
নীলফামারী জেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আলু অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি।
রংপুরের সদ্যপুষ্কুরনী ইউনিয়নের ধাপেরহাট রামজীবন গ্রামের আলু চাষী মনজুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর আলুর আবাদ ভালো হয়েছে। ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। কিছু আলু বিক্রি করে দিয়েছি। বাকী যেটুকু আছে তা ৩০/৩৫ দিন পর উত্তোলন করবো।
এদিকে, রংপুরে আলুর এলাকা হিসাবে পরিচিত তালুক তামপাট দোলাপাড়ার চাষী শফিকুল ইসলাম জানান, আমি ৩৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আলুতে বড় ধরণের কোনো রোগবালাই না থাকায় আশাবাদী যে আলু ফলন ভালো হবে। এছাড়াও  বর্তমান বাজারে আলু দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বিগত বছরের লোকসান পুষিয়ে তোলা যাবে। আর যদি দাম না থাকে তাহলে আমাকে পথে বসতে হবে।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা পারুল ইউনিয়নের দেউতি হাউদারপাড় গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জামাল ও পশ্চিম পারুল ঘাঘটনদীর তীরবর্তি আদর্শপাড়া গ্রামের আলু চাষী ফুল মিয়া জানান, চলতি বছরে আলুতে কোনো রোগবালাই নেই। তাই আমি আশা করি আলু বিক্রি করে পূর্বের ধারদেনা পরিশোধ করতে পারবো।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী জানান, চলতি বছর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আলুর ভালো ফলন হয়েছে। বাজারের আলুর মূল্য সঠিকভাবে স্থিতিশীল থাকলে চলতি বছর আলু চাষীরা আলু চাষ করে লাভবান হবে।