নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করার অভিযোগ এনে বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে তা প্রতিহিংসার বলে অভিমত দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটা পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা এর নিন্দা জানাই।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার চিহ্নমাত্র ছিল না। অথচ ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
ফখরুলের দাবি, ‘খালেদা জিয়া যদি কারাগারের বাইরে থাকেন তাহলে সরকারের টনক নড়ে যায়, তারা অস্থির হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই তাকে রাজনীতি থেকে সরাতে চায় সরকার। আসলে এ মামলা পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু এই রাষ্ট্রদোহ মামলা নয়, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে এর আগেও একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ একাত্তর সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কারাবরণ করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় দেশের উন্নয়ন করেছেন। গণমানুষের জন্য কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও।’
ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরের পাশে কাঁদলেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সবাইকে সাহস যোগানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া বাইরে কাঁদতে পারছেন না বলেও দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
সরকার সাফল্যের সঙ্গে গোটা দেশকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে- এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) গ্রাম পর্যায়েও এই বিভক্তি নিয়ে গেছে। এখন চায়ের দোকানেও দল বিবেচনায় ক্রেতার আগমন ঘটে। গ্রাম্য সালিশেও দল বিবেচনায় বিচার হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার সচেতনভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই এটা করেছে। তবে এটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মোটেই সাহায্য করবে না।’
আন্দোলনের বিকল্প নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার রক্ষায় আমাদের নিজেদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসে আমাদের সাহায্য করবে না। তাই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।’
দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন দেখেছি। ভয়ঙ্কর পাকিস্তানি শাসন দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সামরিক শাসন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহতাও দেখেছি। কিন্তু অতীতে মানুষ এমন দুঃসময় আর কখনো মোকাবেলা করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কেউ এখন আর নিরাপদে নেই। এখন কথা বললেই ও মতামত দিলেই সেটা অপরাধ। সবকিছু চলছে স্বৈরাচারের ইচ্ছানুযায়ী। তারা যা চাইবে তাই হবে। ফলে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন অবস্থার মধ্যেই আমাদের সংগঠিত হতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
সরকারের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কোনো অপরাধ সংগঠিত হলেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা হয়। জঙ্গিবাদ ইস্যুতেও আমাদের ওপর দায় চাপানো হয়। অথচ এটি মোকাবেলায় বিরোধী দলসহ সকলকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- কৃষক দলের সহ-সভাপতি মেহেদী আহমেদ রুমী, এমএ তাহের, একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক তকদীর হোসেন মো. জসীম প্রমুখ।

