ঢাকাThursday , 21 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘অসুস্থ’ তাই আদালতে যাননি খালেদা

Link Copied!

khaleda02নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে আংশিক জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। বাকি জেরার জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশি বাজারস্থ আলীয়া মাদরাসার মাঠে অস্থায়ী তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সাক্ষীর আংশিক জেরা শেষে মামলার পরবর্তী এ তারিখ নির্ধারণের আদেশ দেন। এর আগে আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাজিরা দেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি আদালতকে খালেদা জিয়া অসুস্থ রয়েছেন বলে অবহিত করে তার পক্ষে হাজিরা দেন। পরে আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামিপক্ষে জেরা করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে জেরা শুরু করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। পরে সাক্ষীর আংশিক জেরা শেষ হলে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরচিালনার জন্য দিন নির্ধারণের আদেশ দেন।
এর আগে মামলার ২৭তম সাক্ষী সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম আব্দুল গফুর, ২৮তম সাক্ষী এজিএম মো. হারুন অর রশীদ, ২৯তম সাক্ষী মিরপুর শিল্প এলাকা শাখার ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ ফকির এবং ৩০তম সাক্ষী জিএম আমিন উদ্দিন আহমেদকে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান।
পরে মামলার ৩১তম সাক্ষী কাজী রশিদুজ্জামান ও ৩২তম সাক্ষী দুদক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন প্রসিকিউটর মোশারেফ হোসেন কাজল।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
দুদকের এ দুই মামলায় এর আগে সাক্ষী হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নওশাদ মোহাম্মদের জেরা শেষ হয়। এসময় মামলায় অন্য দুই সাক্ষী আমিরুল ইসলাম, কাস্টমার সার্ভিসেস ম্যানেজার অলোক কান্তি চক্রবর্তীকেও খালেদার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খান।
এছাড়াও এ মামলায় এখন পর্যন্ত চার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব সাক্ষীরা হলেন- শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. মামুনুজ্জামান, সোনালী ব্যাংক ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শাখার ক্যাশ অফিসার ওয়ালিদ আহমেদ, মেট্রো মেকার্স কর্মকর্তা চৌধুরী এম এন আলম ও মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র অফিসার সাইফুল আলম।
উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আপিল আবেদনের ফলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রয়েছে।
তবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ সাক্ষী। তারা হলেন- স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের রিলেশনশিপ ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম, কাস্টমার সার্ভিসেস ম্যানেজার অলোক কান্তি চক্রবর্তী, সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম ড. মো. হাফিজুর রহমান, এজিএম মো. আমিরউদ্দিন ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার পরিতোষ চন্দ্র দে, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নওশাদ মোহাম্মদ, মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ, মামলার রেকর্ডিং অফিসার মাহফুজুল হক ভূঁইয়া এবং জব্দ তালিকার পাঁচ সাক্ষী সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইনসান উদ্দিন আহমেদ, ক্যাশ অফিসার শাহজাহান খান, পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এইচ এম ইসমাইল, জনতা ব্যাংকের সাত মসজিদ শাখার জিএম শেখ মকবুল ও ফাহমিদা রহমান। তাদের আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। আর এ দুই মামলার বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।