ঢাকাSunday , 17 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে চলছে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় সবজি মেলা

Link Copied!

সবজি মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

সবজি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘হরেক রকম সবজি চাষে, সারা বছর অভাব নাশে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ আ.কা.মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে চলছে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় সবজি মেলা ও সবজি প্রদর্শনী। মেলায় ১৫৭ রকমের সবজি প্রদর্শিত হচ্ছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হরেক রকমের সবজির সাথে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিস্তারিত তথ্যও জানতে পারবেন। নতুন নতুন সবজির সঙ্গে রাজধানীবাসীর পরিচয় ঘটবে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরের এ মেলার মাধ্যমে।
আজ রোববার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। মেলা উপলক্ষে খামারবড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের অডিটরিয়ামে ‘পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে বছরব্যাপি সবজি চাষ’ বিষয়ক একটি সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমরা খরপোষ কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে পা রাখছি। আমাদের কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড প্রযুক্তি ভালভাবেই গ্রহণ করেছে। এমনকি জিএমও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সবজি উৎপাদনের অর্জন ও সফলতাকে ধরে রাখার আহ্বান তিনি আরও বলেন, সবজির জন্য উপযোগী স্থানসমূহ চিহ্নিত করে ঐসব স্থানে পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সকল সুবিধাদি যেমন বাজার ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও কৃষকবান্ধব এ সরকার সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সবজি রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকবে সবজির। এ ক্ষেত্রে অর্গানিক পণ্য তৈরিসহ আরও যেসব ক্ষেত্র আছে সেগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। শুধু সবজি উৎপাদনই নয় এর যথাযথ সংগ্রহত্তোর ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদেরকে শিল্প কারখানার উপযোগী সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পাতা জাতীয় সবজির সংরক্ষণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সংগ্রহত্তোর বালাই ব্যবস্থাপনা, উৎপাদিত সবজির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণসহ মূল্য সংযোজিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, বাজার সুযোগ তৈরি, রপ্তানি সহায়ক সব ধরণের কমপ্লায়েন্সের ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট, সবজি উৎপাদন ও সংগ্রহত্তোর পর্যায়ের সব ধরণের অপচয় রোধ করার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয় ও জোরদার এবং সর্বোপরি পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনে কারিগরি নীতিমালা তৈরী করতে হবে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে একশ’টির অধিক বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ হয়ে থাকে। সুস্থ সবল জীবনের জন্য প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরণের সবজি খাওয়া অপরিহার্য। তিনি বলেন, সারা বছর সবজি চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয়বর্ধক কার্যক্রম ত্বরানি¦ত হলে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। বিদেশে সবজি রপ্তানির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আর একটি সম্ভাবনার দিক যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করবে। মন্ত্রী বলেন, আমরাই প্রথম হাইব্রিড সবজি চাষের প্রচলন করেছিলাম। সবজি চাষের সফলতা শুধু আমরা বলি না, বিশ্ব বলে। সবজি চাষে বিশ্বে আমরা তৃতীয়। মন্ত্রী সমুদ্রসীমাকে কাজে লাগিয়ে সি হুইড, অর্গানিক পণ্য তৈরি, উন্নত বীজ, উন্নততর প্যাকেজিংয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি সবজির উন্নত জাত, উৎপাদন প্রযুক্তি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান এবং তা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি মাঠ সম্প্রসারণ কর্মীরা চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বল্পতম সময়ে ছড়িয়ে দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

সবজি মেলা উপলক্ষে আ.কা.মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বর সেজেছে অপরুপ রূপে

সবজি মেলা উপলক্ষে আ.কা.মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বর সেজেছে অপরুপ রূপে

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বরেণ্য কৃষিবিদ, কৃষি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃষকগণ অংশগ্রহণ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্যে ছিলো র‌্যালি, সেমিনার, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রায় ৫০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে।