ঢাকাSunday , 17 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কথা রাখেনি প্রতারক পাকিস্তান

Link Copied!

Shajahanনিজস্ব প্রতিবেদক : নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ত্রি-দেশীয় (বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান) চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কথা দিয়েছিল, যারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার পর বিচার করা হবে। কিন্তু পাকিস্তান তাদের কোনো কথাই রাখেনি।
রোববার দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হল মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আয়োজনে ‘১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার বিচার চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী (আইসিটি) আইনে ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার শুরু করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান সংগঠনের আহ্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান।
মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আদায় ও দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে অনিবার্য হয় বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের একটি সমঝোতা চুক্তি। ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ওই ত্রি-দেশীয় চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কথা দিয়েছিল যারা যুদ্ধাপরাধী হিসাবে চিহ্নিত তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার পর বিচার করা হবে। কিন্তু পাকিস্তান তাদের কোনো কথাই রাখেনি।’
‘এমনকি আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিয়ে যাবে বলে চুক্তির ১২ নং অনুচ্ছেদে যে অঙ্গীকার করেছিল সে অঙ্গীকারও পালন করেনি পাকিস্তান। তাই অনতিবিলম্বে ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার শুরু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি’, বলেন মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহজাহান খান আরো বলেন, ‘জেনেভা কনভেনশন, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন, জাতিসংঘের ঘোষণাসহ সকল আন্তর্জাতিক ন্যায়-নীতি ও শিষ্টাচার বিসর্জন দিয়ে বিগত চুয়াল্লিশ বছরেও তাদের মৌখিক অঙ্গীকার বা লিখিত চুক্তি, কোনোটাই পালন করেনি পাকিস্তান নামক প্রতারক রাষ্ট্রটি।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ১৯৭১ সালের লজ্জাজনক পরাজয়কে এখনও মেনে নিতে পারেনি। এ কারণেই তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই নানারকম চক্রান্ত করে চলেছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং কারা অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দিয়ে তাদের মিত্রদের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করাসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা ধ্বংসের প্রতিটি চক্রান্তে তারা ছিল নেপথ্যে সক্রিয়। আজ যখন এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন হচ্ছে তখন মুখোশের আড়াল থেকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে পাকিস্তানের নোংরা মুখচ্ছবি।’
এ সময় শাহজাহান খান ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের’ ২১ দফা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১৯৭১ সালে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার করার লক্ষ্যে জনমত গঠন করা। পাকবাহিনী কর্তৃক ১৯৭১ সালে সংগঠিত গণহত্যা, সম্পদ ধ্বংস ও লুণ্ঠনসহ নারী নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানের কাছে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো। বাংলাদেশে সংগঠিত একাত্তরের গণহত্যাকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে স্বীকৃতি আদায় করা। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের দ্রুত পাকিস্তানে ফেরত নিতে বাধ্য করা। পাকিস্তান সরকার ও ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাস বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে তা বন্ধ করা এবং তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে জাতির আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, শিরিন আখতার এমপি, চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ, ‍সাবেক ছাত্রনেতা  ইসমত কাদির গামা প্রমুখ।