নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের দুই বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ।
‘কারণ বাকশাল গঠনের পর আওয়ামী লীগ ছিল না। জিয়াউর রহমানের সময় বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছিল, তখন আওয়ামী লীগও নিবন্ধন নেয়,’ বলেন ফখরুল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এগুলো অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা। এসব বলে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এতে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানও।
ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ জাতিকে হতাশ করেছে। জাতির প্রত্যাশা ছিল, দেশে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে একটি দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, প্রধানমন্ত্রী রুটিনমাফিক বক্তব্য রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিগত দুই বছর ছিল গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করার সময়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত করার সময়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একটি প্রহসন। এর মাধ্যমে একটি রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট এবং একটি অদ্ভুত ধরনের সরকার গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।’
‘পরবর্তী সময়ে এই সরকার উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচন করে প্রমাণ করেছে বর্তমান সরকারের অধীনে ও নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারে না,’ যোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। গত দুই বছর ছিল বিরোধী দল ও মতের দমন-পীড়নের নজিরবিহীন উদাহরণ।’
ফখরুল জানান, ওই দুই বছরে ৪৪০ জন হত্যা ও খুনের শিকার হয়েছেন। গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন ২৬৭ জন, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৩৩৭ জন। এ সময় রাজনৈতিক মামলা হয়েছে ২১ হাজার ৮৩ টি। আসামি করা হয়েছে চার লাখ ১৬ হাজার ৭৪৭ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮৫ জন।’
ফখরুলের মতে, ‘সরকারের মূল্য লক্ষ্য ছিল, গণতন্ত্রকে বিদায় করে তথাকথিত উন্নয়নের নামে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা এবং তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ‘গণমাধ্যম স্বাধীন’। কিন্তু ‘এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’, বলেন ফখরুল। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘চ্যানেল ওয়ান, ইটিভি, দিগন্ত টিভি, সিএসবি, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একুশে টেলিভিশনকে জোর করে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

