ঢাকাTuesday , 5 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অতিথি পাখিতে মুখর হয়ে উঠছে জাবির লেক

Link Copied!

juনিজস্ব প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) লাল শাপলায় সুশোভিত লেকগুলো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হতে চলেছে। বরাবরের মতো এবারও শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা। অতিথিদের কিচিরমিচির শব্দে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা দিচ্ছে এক অন্যরকম আবহ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে দৃষ্টি দিলে লাল শাপলার আভায় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। লেকের অপরূপ সৌন্দর্য সবার দৃষ্টি কাড়ছে। বুঝি বা শীতের অতিথি পাখিকে বরণ করে নিতে লেকগুলোও প্রস্তুতি নিয়ে আছে। আর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখির ঝাঁক। লেকের লাল শাপলার ফাঁকে ফাঁকে দু’একটি করে উড়ে উড়ে জানান দিচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অতিথি পাখি বরণ করতে নিয়েছে আগাম প্রস্তুতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়া থেকে পরিযায়ী পাখিরা এখানকার লেকে ভীড় জমায়। শীতের সময় ক্যাম্পাসবাসীর ঘুম ভাঙে অতিথি পাখির কলরবে। হাজার হাজার পাখিপ্রেমীও ভীড় জমান ক্যাম্পাসে। আসেন বিদেশিরাও।
শীতের অতিথি পাখি আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বছর অতিথি পাখির আগমন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লেকগুলো পরিষ্কার করার পাশাপাশি শাপলা গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়। তার সুফল হিসেবেই ইতোমধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক জানান, অতিথি পাখিদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাখিদের চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এবং দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাখি দেখতে পারেন সে জন্য লেকের আশপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবন ও পরিবহন চত্বরের পাশের লেক দুটিতে এবার মাছ চাষ করা হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর উত্তরের শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে আসে। আর বাংলাদেশে আসা পাখিদের চার ভাগের এক ভাগই জায়গা নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে।
প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মস্তফা ফিরোজ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের লেকগুলো পাখিদের বসবাসের উপযোগী করায় এবার এখানে অতিথি পাখির সংখ্যা বাড়বে।’
মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে অতিথি পাখি এ দেশে আসে। আবার মার্চের শেষ দিকে আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। এর মধ্যে দুই ধরনের পাখির আগমন ঘটে এখানে। এক ধরনের পাখি ডাঙায় বা গাছের ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি পানিতে থাকে। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয় ও পানিতে বসবাস করে। মূলত এরাই সবার নজরে আসে। এর মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনি, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি ও পাতারি অন্যতম। এ ছাড়া মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখি অতিথি হয়ে আসে প্রতিবছর।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় প্রায় ১৭টি লেক আছে। এর মধ্যে পাখিদের বসবাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি লেককে অভয়াশ্রম করা হয়েছে।