ঢাকাSunday , 3 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুটবলে আশা-নিরাশার বছর ২০১৫

Link Copied!

bangladeshস্পোর্টস ডেস্ক : বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গন বেশি সরগরম ছিল ২০১৫ সালে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ থেকে শুরু করে সবশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত ছিল জাতীয় দলের ঠাসা সূচি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও এই পর্বের প্রস্তুতি হিসেবে বেশকিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে সাফল্য এসেছে খুব সামান্যই। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে রানার্সআপ ও সাফে ভুটানের বিপক্ষে জয় ছাড়া উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু করতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে যে আশার ঝলক দিয়ে বছরটা শুরু হয়েছিল, সাফে ব্যর্থতার মাধ্যমে তা হতাশায় রূপ নেয়। তবে জাতীয় দল ছাড়াও বয়সভিত্তিক ছেলে ও মেয়েদের দলগুলোর বিভিন্ন অর্জন, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা হয়েছে এই বছরে। জাতীয় দলে একের পর এক কোচ বদলেও সরগরম ছিল ফুটবল অঙ্গন। সবশেষ সাফে ব্যর্থতা ও বাফুফে ভবনে হামলার মধ্য দিয়ে সারা বছরের অর্জন অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। ফুটবল ছাড়া অন্য ফেডারেশনগুলোও ছিল সরব এই বছরে।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ: বাংলাদেশের ফুটবলে জাগরণের একটা আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১৫ সাল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ সেই জাগরণের একটা আভাসই দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন পরে কোনো টুর্নামেন্টে ফুটবল খেলায় ফিরে ছন্দ। সেই ছন্দে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। সেমিতে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয় মামুনুল বাহিনীর। তবে ফাইনালে মালয়েশিয়ার কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা।
bangladeshবিশ্বকাপ বাছাই: দীর্ঘ সময় পর প্লে-অফ খেলা ছাড়াই এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপে সঙ্গী হয় বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় প্রত্যেকটি দলই ছিল মামুনুলদের চেয়ে অনেক উপরে। তথাপি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বে খেলায় বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের। তবে বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচের সাতটিতে খেলা হয়ে গেছে। যেখানে বাংলাদেশের অর্জন মাত্র এক পয়েন্ট। তাই এশিয়ান কাপের ফাইনালসে খেলার সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে মামুনুল বাহিনীর। বাছাইপর্বে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ৩-১ ও এ্যাওয়ে ম্যাচে ২-০, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম ম্যাচে ৪-০ ও অ্যাওয়ে ম্যাচে ৫-০ এবং জর্ডানের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। কেবল তাজিকিস্তানের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে মামুনুলরা। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। এখন শুধু জর্ডানের বিপক্ষে একটি এ্যাওয়ে ম্যাচ বাকি রয়েছে। যা আগামী বছর মার্চে অনুষ্ঠিত হবে।
Bangladeshসাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: বছরের শেষ দিকটাতে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধে বাংলাদেশ। ভারতের কেরালার ত্রিবান্দ্রামে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে আরো হতাশ করেছেন মামুনুলরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে হারের পর মালদ্বীপের কাছে হারে ৩-১ গোলে। তাতেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় হয়ে যায় লাল-সবুজের দলের। যদিও ভুটানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছে ৩-০ গোলে।
bang Footballএক বছরে জাতীয় দলে তিন কোচ: বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েও বছরের শুরুতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফকে ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে ফিফা বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এ্যাসাইনম্যান্টভিত্তিক কাজ করা ক্রুইফকে বিদায় দেয় বাফুফে। তার জায়গায় আসেন ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজ। চার মাসের জন্য নিয়োগ দেয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তাকেও বিদায় দেয়া হয় সাফের আগেই। নতুনভাবে নিয়োগ পান উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সপ্রাপ্ত একমাত্র বাংলাদেশী মারুফুল হক। তার অধীনেও সাফে বাংলাদেশ ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। তথাপি নতুন বছরের শুরুতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে তিনি থাকছেন।
অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে শিরোপা: জাতীয় ফুটবল দল যখন সাফে টানা ব্যর্থ, তখন কিশোর ফুটবলাররা দেখায় নৈপূণ্য। আগস্টে সিলেটে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরে টাইব্রেকারে ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে হারিয়ে গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ দল। আর সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে পায় ফাইনালের টিকিট।
সুপার মক কাপ: ডিসেম্বরে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বালকদের দুটি দল সুপার মক কাপে দুর্দান্ত সাফল্য পায় বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ে বাংলাদেশ প্লেট চ্যাম্পিয়ন ও অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ে রানার্সআপ হয়। ১১টি দেশের ৪০টি ফুটবল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে অনূর্ধ্ব-১২ দল প্লেট পর্বের ফাইনাল খেলায় মালয়েশিয়ার ক্লাব ফুটবল দলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। আর অনূর্ধ্ব-১৩ দল প্লেট পর্বের ফাইনাল খেলায় থাইল্যান্ডের ক্লাব ফুটবল দলের সাথে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়।
এএফসি রিজিওনাল ফুটবলে মেয়েদের শিরোপা: এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা দল। নেপালে ভূমিকম্পের কারণে এপ্রিলে স্থগিত হওয়া ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ২০ ডিসেম্বর। সেটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। মেয়েদের এই দলের নয় ফুটবলারের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামে।
বয়সভিত্তিক অন্যান্য প্রতিযোগিতা: বয়সভিত্তিক অন্যান্য প্রতিযোগিতার মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৯ দল সাফে সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। তবে ভারতের কাছে হেরে সেখান থেকেই বিদায় হয় তাদের। এছাড়াও এএফসি বাছাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
ঘরোয়া ফুটবল
উড়ন্ত শেখ জামাল: ঘরোয়া পর্যায়ে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের আধিপত্যের মধ্য দিয়ে কেটেছে ২০১৫ সাল। ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জিতে দলটি। দেশের বাইরেও দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভাল। এএফসি ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপপর্ব পেরিয়ে চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করেছে দলটি।
জাতীয় লিগে অচলাবস্থা: জাতীয় লিগে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও রহমতগঞ্জের মধ্যে খেলা নিয়ে দ্বিতীয় লেগের শেষ দিকে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ম্যাচ বর্জন করে রহমতগঞ্জ। সেই অপরাধে আর্থিক জরিমানাসহ প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় দলটিকে। পাশাপাশি দলটির বিপক্ষে বাকি তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে ওয়াকওভার বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপ বাদ: খুব হাঁকডাক করে স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপসহ ক্যালেন্ডার বর্ষ ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট দুটি আয়োজন করতে পারেনি বাফুফে।
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ: দেশ-বিদেশের আট ক্লাবকে নিয়ে অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো হয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ। যেখানে বাংলাদেশের তিনটি, ভারতের দুটিসহ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার একটি করে ক্লাব অংশ নেয়। বাংলাদেশের ক্লাব হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী।
শোকজ কাণ্ডে উত্তপ্ত বাফুফে: নভেম্বরে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের চেয়ারম্যান মনজুর কাদের ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডাইরেক্টর ইন-চার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে শোকজ করে বাফুফে বিপাকে পড়ে। এক পর্যায়ে কয়েকটি ক্লাব মিলে দলবদলে অংশ না নেয়ার হুমকিও দেয়।
বাফুফে ভবনে নজিরবিহীন হামলা: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে পুলিশ এসসির কাছে হেরে আরামবাগ ক্রীড়াচক্রের সমর্থকরা গত ২২ ডিসেম্বর বাফুফে ভবনে হামলা করে। এই ঘটনায় মামলার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলা স্থগিত করে বাফুফে।
অন্যান্য খেলা: ২০১৫ সালে ফুটবল ছাড়াও অন্যান্য ফেডারেশনও বেশ সরব ছিল। বিশেষ করে হকি ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহকে নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ক্লাবগুলো তার অধীনে দলবদলে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে রহমতউল্লাহকে সরিয়ে সাবেক হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেককে সাধারণ সম্পাদক করলে সেই অচলাবস্থার অবসান হয়।
এছাড়া গলফে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সাড়া বছরই গণমাধ্যমের আলোচনায় ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। বাংলাদেশ এ বছর প্রথম এশিয়ান ট্যুর প্রতিযোগিতা ‘বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন’ এর আয়োজন করে। যদিও এবার সিদ্দিকুরসহ কেউ এশিয়ান ট্যুরে কোনো শিরোপার দেখা পাননি। ভলিবলে বাংলাদেশ আয়োজন করে এশিয়ান পুরুষ সিনিয়র প্রতিযোগিতার (সেন্ট্রাল জোন) । এছাড়াও কাবাডি, আরচ্যারি, শ্যুটিং, হ্যান্ডবলসহ অন্যান্য ফেডারেশনও নানা আয়োজন নিয়ে ২০১৫ সালে বেশ সরব ছিল।