চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : একসময় শিবিরের ঘাটি ও দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটা হল থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাসে শিবিরের একক আধিপাত্যের কারণে ছাত্রলীগসহ অন্যন্য ছাত্রসংগঠন ছিল তাদের হাতে জিম্মি।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে হল থেকে একের পর এক মৌলবাদী শিবিরকেই সমূলে উৎপাত করে ছাত্রলীগ ।
বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরও ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের হাতে বন্ধি ছিল।। কিন্তু ছাত্রলীগের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে ওই বছরেই প্রথম শাহ জালাল হল শিবিরমুক্ত করে তারা । তারপর শাহ জালাল হল কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু করে কর্মী সংখ্যা বাড়াতে থাকে ছাত্রলীগ ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আস্তে আস্তে প্রভাব বিস্তার করে ২০১১ সালের ঠিক দু’বছর পর ২০১৪ সালে ১২ জানুয়ারি সবচেয়ে বড় হল হিসেবে পরিচিত শাহ আমানত হল থেকেও শিবিরমুক্ত করে ছাত্রলীগের পতাকা উড়ায় তারা । ওই বছরেই আগস্ট মাসে সোহরাওয়ার্দী হল থেকেও শিবিরমুক্ত করে ছাত্রলীগ ।
কিন্তু পুরোপুরি শিবিরমুক্ত হয় ২০১৫ সালেই । ওই বছরেই ২২ মে আলাওল ও এ এফ রহমান হল কেন্দ্রিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিবির ছাত্রলীগ । কিন্তু ছাত্রলীগের ঔক্যবদ্ধ ভূমিকায় এ দু’টি হল থেকেও শিবির পালিয়ে যায় ।
সর্বশেষ বাকি ছিল শহীদ আব্দুর রব হল, যে হলে শিক্ষকবাসে হামলার পরিকল্পনাসহ শিবিরের গোপন বৈঠক করা হত। কিন্তু সে হল থেকেও গত ১১ নভেম্বর শিবিরমুক্ত হয়। প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশের অভিযানে গোপন বৈঠক থেকে আটক করা হয় ওই হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ১৪ জন নেতাকর্মীকে। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জিহাদীবই সহ, লাঠি ও পাথরও উদ্ধার করা হয় ।
এদিকে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা বলছেন, ছাত্রলীগ যদি ঔক্যবদ্ধ থাকে তাহলে যেকোনো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রগতিশীল পতাকা উড়াতে সক্ষম । এ জন্য কিন্তু নিজেদেরকে আগে ঐক্যবদ্ধ ।হতে হবে পাশাপাশি নিজেদের নেতাকর্মী যদি কোনো অন্যায় করে তাহলে তাদেরকেও উপযুক্ত শাস্তির অাওয়াতায় আনতে হবে বলেও মনে করেন তারা ।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, ‘আমরা সেই বিগত কঠিন সময় থেকে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকব । ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও যুদ্ধাপরাধী মৌলবাদী জামাত শিবিরকে উৎখাত করেছি । বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধ পরিকর ।’তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে আমাদের জুনিয়রদের মধ্যে কিছু সমস্যা হয় কিন্তু তা বৃহৎ প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ সাধারণ সম্পাদক(সুজন)ও আমি তা কঠোর হস্তে দমন করি ।’
সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে জামাত-শিবির প্রভাব বিস্তার করে আসছিল কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর শিবিরকে ক্যাম্পাস ছাড়া করি । তারপরও মৌলবাদি জামাত-শিবির ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যার প্রমাণ শিবিরের তিন জঙ্গি গোয়েন্ডাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে । কিন্তু আমরা সামনে এ ছদ্মবেশী শিবিরকেও সমূলে উৎপাটন করব ।’

