স্পোর্টস ডেস্ক : কঠিন মনোবল আর ইস্পাত দৃঢ়তায় দিনে দিনে এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তানের ক্রিকেট। ২০১৫ সালটা আফগানদের জন্য ছিল সোনায় মোড়ানো। শারজায় পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান। তারা টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়েকে পাত্তাই দিচ্ছে না। শনিবার তৃতীয় ম্যাচটি হারলেই দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ খোয়াতে হবে এলটন চিগুম্বুরার দলকে। পক্ষান্তরে এই ম্যাচেও যে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলবে আফগানরা সেটা না বললেও চলে! বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল পাঁচটায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে নিও প্রাইম।
নতুন বছরের শুরুতে রাজ্যের চাপ ভর করেছে জিম্বাবুয়ের উপর। পরপর দু’ম্যাচ তাদের হারতে হয়েছে। মাস তিনেক আগে ঘরের মাঠে তাদের ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজও হারতে হয়েছিল। সেই প্রতিশোধ নেওয়া দূরে থাক, উল্টো আরেকটি সিরিজে ভীষণ রকম চাপে পড়ে গিয়েছে জিম্বাবুয়েনরা। আইসিসি র্যাংকিংয়ে ১০ নম্বর পজিসন আফগানদের কাছে হারিয়ে তাদের নেমে যেতে হয়েছে ১১ নম্বরে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্কোরবোর্ডে ২৫৩ রান তুলে জয়ের প্রত্যাশাই করেছিলেন চিগুম্বুরা। কিন্তু উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ অপরাজিত ১৩১ রানের ইনিংস খেলে একাই আফগানদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। তার এই ইনিংস যে কোন আফগান ব্যাটসম্যানদের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন শাহজাদের উদ্বোধনী সঙ্গী নুর আলী জাদরানও। সিরিজে এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি।
স্পিন আক্রমণেও জিম্বাবুয়ের চেয়ে এগিয়ে আফগানরা। আমির হামজা নতুন বলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছেন। তার সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী মাঝের ওভারগুলোতে কার্যকর ভুমিকা রাখছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষিক্ত রোখান বারাকাইও খারাপ করেননি।
জিম্বাবুয়ের রিকমন্ড মুতামবামি প্রথম দুই ম্যাচে সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারায় তার জায়গা নিতে পারেন অলরাউন্ডার চামু চিবাবা। বাঁহাতি স্পিনার টেন্ডাই চিসারোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। আফগানিস্তানের কিছু তরুণ প্রতিভা বসে আছে ঠিকই কিন্তু এই মূহুর্তে তারা উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবে না। সেক্ষেত্রে তারা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে।
২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৯টি ওয়ানডে খেলেছে আফগানিস্তান। এরমধ্যে সাতবারই বিজয়ের হাসি হেসেছে আফগানরা। তাদের এই পারফরম্যান্সে যে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হকের বড় ভুমিকা রয়েছে সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন শাহজাদ। তার ভাষায়, ‘আমাদের কোচ ইনজামাম-উল-হক একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়। তার উপস্থিতিতে দল অসামান্য উন্নতি করেছে। তার টিপস এবং দিকনির্দেশনায় আমাদের ব্যাটিং লাইনআপের অনেক উন্নতি হয়েছে। বোলিংয়ে প্রচুর সাহায্য করছেন মনোজ প্রভাকর। আফগানিস্তানের উপরে উঠার পেছনে এই দু’কোচের নির্দেশনা দারুণভাবে কাজে লাগছে।’
আফগানিস্তান (সম্ভাব্য): নুর আলী জাদরান, মোহাম্মদ শাহজাদ, মোহাম্মদ নবী, নওরোজ মঙ্গল, আসগর স্ট্যানিকজাই, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, মিরওয়াইস আশরাফ, দৌলত জাদরান, আমির হামজা, রোখান বারাকাই/ইয়ামিন আহমেদজাই।
জিম্বাবুয়ে (সম্ভাব্য): পিটার মুর, রিকমন্ড মুতামবামি/চামু চিবাবা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ক্রেইগ আরভিন, এলটন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়েলার, লুক জঙ্গে, গ্রায়েম ক্রেমার, ওয়েলিটন মাসাকাদজা/টেন্ডাই চিসোরো, তুরাই মুজারাবানি।

