স্পোর্টস ডেস্ক : আমির ইস্যুতে সরগরম পাকিস্তান। বেশকয়েকদিন যাবত পিসিবিতে প্রতিদিনই মঞ্চস্থ হচ্ছে একেক নাটক। বিশেষ করে পাকিস্তান ক্রিকেটে এই মুহূর্তে দুটি গ্রুপই সক্রিয় অবস্থানে। কেউ আমিরের পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে। কেউ বলছেন ক্ষমা করে দিয়েছি, কিন্তু একসঙ্গে খেলতে পারবো না। পিসিবিও কখনও হার্ডলাইনে যাচ্ছে আবার কখনও নমনীয়তার ভাব দেখাচ্ছে। দলের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার আলী ও ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ জল একটু বেশিই ঘোলা করেছেন। শুরুতে আমিরের উপস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প বর্জনের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত অনুশীলনে তিনজনকে দেখা গেল একসঙ্গে।
আমির ইস্যুতে বর্তমানে খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্য কারো কোন সমস্যা না থাকলেও স্রোতের বিপরীতে নৈতিকতার দোহাই দিয়ে বিরোধিতাই করছেন না শুধু একেবারে হাটুগেড়ে অবস্থানও নিয়েছেন। বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার আলী ও সাবেক অধিকায়ক মোহাম্মদ হাফিজ বিরোধীপক্ষে আছেন। তবে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও সরগরম আছেন এই ইস্যুতে। কিংবদন্তি ইমরান খান, ওয়াসিম আকরামদের অবস্থানও আমিরের পক্ষে। বিপক্ষের চেয়ে পক্ষের সংখ্যাই বেশি। তাদের বক্তব্য অপরাধী অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। যোগ্যতা থাকলে তাকে খেলতে দেয়া উচিৎ। সমালোচকের কাতারে রয়েছেন অনেক বিতর্কিতরাও।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ আবার মাঝে-মধ্যে হুঙ্কারও দিচ্ছেন দুর্নীতির বিপক্ষে। দুর্নীতি আর জোচ্চুরিই যার পেশা, তার মুখে আবার নৈতিকতা। ক্রিকেটপ্রেমীদের হয়তো মনে আছে সেই মুলতান টেস্টে ড্রপ ক্যাচের কথা। ২০০৩ সালে দারুণ ফর্মে থাকা অলক কাপালিকে প্রতারণা করে ফিরিয়েছিলেন এই সেই লতিফ। অবশ্যই আইসিসি তাকে শাস্তিও দিয়েছে ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে। এরপর আর তিনি ফিরতে পারেননি ক্রিকেটে।
সেই রাশিদ লতিফ এখন আমির ইস্যুতে সোচ্চার। যাই হোক মজার বিষয় হচ্ছে পিসিবি কিন্তু নাছোরবান্দা। তারাও জোরালোভাবেই আছেন আমিরের পক্ষে। শেষপর্যন্ত জয়টা আমিরেরই হবে এবং তা হলো মনে হয়। সর্বশেষ অনুশীলনে যে তিনজন একই ফ্রেমবন্দি হয়েছেন। দেখা যাক শেষপর্যন্ত কি হয়!

