ঢাকাTuesday , 29 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়নুল আবেদিন: চিত্রকলার মুকুটহীন সম্রাট

Link Copied!

joynalবিনোদন ডেস্ক : জয়নুল আবেদিন, শুধু বাংলাদেশ নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান একজন অন্যতম চিত্রশিল্পী। তাকে চিত্রকলার মুকুটহীন সম্রাট বলেই আখ্যা দেয়া হয়। তার তুলির আঁচরে বাংলার নবান্ন, জলোচ্ছ্বাস, গাঁয়ের বধূ, নদী পাড়ের মানুষের জীবন, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের হারখাটুনি, মইটানা, জেলের গুনটানা, ঝড়, বিদ্রোহ, সাঁওতাল কন্যা, এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জীবন্ত হয়ে আছে। পৃথিবী খ্যাত এই শিল্পীর আজ ১০১তম জন্মবার্ষিকী।
ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রচন্ড ঝোঁক। আপন মনেই তাই এঁকে চলতেন পাখি, পাখির বাসা, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফলসহ চোখের সামনে যা পেতেন তাই! এত ছোট্ট বয়সে চিত্রকলার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখার মত। কিন্তু নিজের আগ্রহ থাকলেই কি আর সব হয়! পরিবার থেকে আসে বাধা। কিন্তু যার শরীরে শিল্পের বাসনা, তাকে কি রুখে দেয়া যায়! ফলত মাত্র ষোল বছর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বন্ধুদের সাথে কলকাতায় গেলেন শুধুমাত্র ‘কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস’ দেখার জন্য। আর তা দেখে মাথা আউলে যাওয়ার যোগার তার। সেখানের আর্ট দেখার পর সাধারণ পড়াশোনায় মন বসাতে পারলেন না জয়নুল আবেদিন। তাই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখার বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং একমাত্র মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন। চিত্রকলার প্রতি ছেলের এমন আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করেন তার মা। যা দিয়ে ছেলেকে কলকাতার তখনকার আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। মায়ের এই ঋণ অবশ্য শোধ করেছিলেন জয়নুল। না, মাকে সেই গয়না ফিরিয়ে দিয়ে নয়, বরং ভালবাসার ঋণ শোধ করেছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৪৩ সালের বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হলে এই বিষয়টি শিল্পী জয়নুলকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। ভয়বাহ প্রাকৃত্কি এই দুর্যোগকে তিনি তার চিত্রে ধরে রাখার মনস্থির করেন। চোখের সামনে বাংলার এই ভয়াবহ চিত্রপট একজন চৌকস শিল্পী হিসেবে তিনি ঠিকই ধরেছেন তার ‘দুর্ভিক্ষ’ শিরোনামে সিরিজ ছবি এঁকে।  ফুটপাতে পশুর ন্যায় মানুষের ছড়াছড়ি, কাক ও কুকুরের সঙ্গে নিরন্ন মানুষ ডাস্টবিনে খাবারের ছবি, মানুষের লাশের ওপর বসে মাংস খাচ্ছে কাক ও শকুন, এরকম নির্মম অথচ বাস্তবধর্মী ছবি এঁকেছেন জয়নুল। ধরে রেখেছেন সেই ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময়টাকেই।
দুর্ভিক্ষ ছাড়াও জয়নুল আবেদিনের আঁকা গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে ৬৫ ফুট দীর্ঘ বিখ্যাত ছবি ‘নবান্ন’, সত্তুরের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে ৩০ ফুট দীর্ঘ ‘মনপুরা-৭০’ ছবিগুলোও সেই সময়কেই প্রতিনিধিত্ব করে।