বিনোদন ডেস্ক : রাজধানীর ধানমণ্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী কত্থক নৃত্য উৎসব। কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অতিথিদের নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান বলেন, ‘আমরা নাচের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করি। নাচের ভাষা বিশ্বজনীন। আমাদের দেশে এখনো নাচের মূল্যায়ন নেই। নাচের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতারও অভাব রয়েছে।’
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমি নৃত্যের লোক না হলেও শিল্পের লোক। নৃত্য একটি আদিম শিল্প। নৃত্যশিল্পীরা নাচের মাধ্যমে প্রজন্মকে গড়ছেন। নাচের পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্র ও সমাজের উদ্যোগ নিতে হবে।’
আলোচনাপর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের কর্ণধার নৃত্যশিল্পী সাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী লুবনা মরিয়মকে দেয়া হয়েছে জীনাত জাহান স্মৃতি সম্মাননা পদক। লুবনা মরিয়ম দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করে তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান সাধনার শিক্ষার্থী শাম্মী।
১৯৪০ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন নৃত্যশিল্পী জীনাত জাহান। ২০০২ সালে এই গুণী নৃত্যশিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে জীনাত জাহান স্মৃতি সম্মাননা পদক দেয়া হয়।
নাচের শুরুতে ছিল ‘বন্দনা’ ও ‘ছন্দমালিকা’। সাজু আহমেদের পরিচালনায় এ নাচটিতে অংশ নেন সাজু আহমেদ, পাপ্পু সাহা ও অতন্দ্র বিশ্বাস। সাজু আহমেদের পরিচালনায় দ্বিতীয় নাচ ‘ছন্দকুঁড়ি’ পরিবেশন করেন উৎসবের সর্বকনিষ্ঠ নৃত্যশিল্পী সারা অর্পিতা।
এ ছাড়াও কত্থক নাচে অংশ নেন সুপর্ণা, অরুশা, ঐশী, ইমন কুমার দে, আইনানী অর্পিতা, পাপ্পু সাহা, তাসমিয়া, পুনম, মিথিলা, ফাইজা, ফারজানা প্রমুখ। ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে বসবে কত্থক নাচের দ্বিতীয় দিনের আসর।

