ঢাকাWednesday , 23 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাফ ফুটবলের ইতিবৃত্ত

Link Copied!

saffস্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বাড়াতে তিন দশক আগে সার্কের যাত্রা শুরু হয়। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে পরবর্তীতে এই অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র বিভিন্ন দিকে সম্প্রসারিত হয়। তাই ১৯৮৫ সালে সার্কের যাত্রা শুরুর আট বছর পর শুরু হয় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে চলা এই প্রতিযোগিতাকে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ বলেও আখ্যা দেন অনেকে।
বুধবার ভারতের কেরালায় বসছে সাফ ফুটবলের একাদশ আসর। তৃতীয়বারের মতো ভারত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। বুধবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা পরস্পরের মুখোমুখি হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় এবার সাত দলের সাফ হচ্ছে। আর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে বেড়িয়ে যাওয়ায় আফগানিস্তান শেষবারের মতো খেলছে সাফে।
এই প্রতিযোগিতায় ভারতই শুরু থেকে আধিপত্য করেছে। শেষ ১০ আসরে সর্বোচ্চ ছয়বার শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। আর একবার করে জিতেছে মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। এর মধ্যে আফগানিস্তান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।
সাফের প্রথম আসরে আয়োজক ছিল পাকিস্তান। লাহোরে ১৯৯৩ সালে সেই আসরে অংশ নেয় চারটি দল। প্রথম আসরে খেলা দলগুলো হল-ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। লিগ পদ্ধতিতে হয় সেই টুর্নামেন্ট। যেখানে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় স্থানে থেকে হয়েছিল রানার্সআপ। অবশ্য পাকিস্তান মূল দল খেলেনি টুর্নামেন্টে। জুনিয়র টিম পাকিস্তান হোয়াইট নামে এতে অংশ নেয় তখন।
শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সাফের দ্বিতীয় আসরে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নেয়। সেবার দুটি দল বাড়ার কথা থাকলেও শেষ বেলায় মালদ্বীপ প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তথাপি প্রথম রাউন্ডে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৫ দল খেলে। অংশ নিয়ে প্রথমবারই গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচেই জয় পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও নেপালকে হারিযে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলে সেমিফাইনালে। তবে সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতের কাছে হেরে যায় লাল-সবুজের দল। অবশ্য ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
সাফের পরবর্তী দুটি আসরেই ছয়টি করে দল অংশ নেয়। ১৯৯৭ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসরে মালদ্বীপকে হারিযে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। তবে সেবার বাংলাদেশ ভারতের কাছে হার ও মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। তবে ১৯৯৯ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সাফের চতুর্থ আসরে আবারো চমক দেখায় বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে ড্র ও পাকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে বাংলাদেশ। অবশ্য ভারতের কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লাল-সবুজদের।
শুরু থেকে প্রথম চারটি আসর দুই বছর অন্তর অন্তর হলেও সাফের পঞ্চম আসর হয় চার বছর পর। ২০০২ সালে এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা থাকলেও ফিফা কর্তৃক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তখন বহিস্কৃত হওয়ায় ওই বছর মাঠে গড়ায়নি সাফ। তবে এক বছর পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের আয়োজনেই হয় এই টুর্নামেন্টে।
যেখানে ভুটান ও আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো অংশ নেয়। তাই শুরুতে দল সংখ্যা যা ছিল পঞ্চম আসরে তার দ্বিগুণ হয়। ৮ দলের টুর্নামেন্টে সেবার বাংলাদেশে পরেছে দক্ষিণ এশিয়া সেরার মুকুট। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ সবকটি ম্যাচ জিতে। নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ওঠে সেমিফাইনালে। সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে (৫-৩) হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আমিনুল-আলফাজরা।
পাকিস্তানের আয়োজনে ২০০৫ সালে হয় ষষ্ঠ আসর। ২০১৩ সাল পর্যন্ত পরবর্তী সবকটি আসর হয় ৮ দলের অংশগ্রহণে। পাকিস্তানে ষষ্ঠ আসরেও বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে জয় এবং ভারতের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে খেলে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে এবার হেরে যায় ভারতের কাছে।
এক বছর বিলম্বে ২০০৮ সালে সাফের সপ্তম আসর হয় মালদ্বীপে। সেবার থেকেই সাফের পারফরম্যান্সে অবনমন হতে থাকে বাংলাদেশের। গ্রুপপর্যায়ে ভুটান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র এবং শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে তৃতীয় হয় বাংলাদেশ। তাই এবার আর সেমিফাইনাল খেলার সৌভাগ্য হযনি তাদের। সেবার আয়োজক মালদ্বীপ ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সাফ আয়োজন করে ২০০৯ সালে; অষ্টম আসরে। এবার ভুটান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। তবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় স্বাগতিকরা। ফাইনালে টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
সাফের শেষ দুটি আসর হয় ভারত ও নেপালে। এই দুবারই বাংলাদেশ সবচেয়ে ব্যর্থ হয়। কোনো জয় ছাড়াই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায নেয় মামুনুল-এমিলিরা। ২০১১ সালে পাকিস্তান ও ২০১৩ সালে ভারতের সঙ্গে ড্র-ই প্রাপ্তি বাংলাদেশের। তবে এই দুবারই ফাইনাল হয় আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে। এর মধ্যে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ২০১১ সালে ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। আর সবশেষ টুর্নামেন্টে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় আফগানিস্তান।
অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে এখনো নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান একবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ভারতে এবার নতুন কারো মাথায় ওঠবে দক্ষিণ এশিয়া সেরার মুকুট, নাকি পুরনো কেউ ঘরে তুলবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা? সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।