স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট ক্রিকেটের আসল রোমাঞ্চ দেখছে হ্যামিল্টনের সেডন পার্ক। সবুজ পিচে লংকানদের উড়িয়ে দিতে চার পেসার খেলিয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিন্তু কিউইরা বাড়তি সুবিধা আদায় করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ে লংকান বোলারদের উপর তারা ছরি ঘোরাবেন এটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু হলো উল্টো। দ্বিতীয় দিনে সবুজ পিচের ফায়দা পুরোটাই তুলে নিয়েছে লংকানরা। বিশেষ করে দুশমন্ত চামিরার ক্যারিয়ার সেরা (৪৭/৫) বোলিংয়ে ছত্রখান হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং। স্কোরবোর্ডে ২৩২ রান তুলতেই চলে গেছে ৯ উইকেট। এখনও নিউজিল্যান্ড লংকানদের চেয়ে ৬০ রানে পিছিয়ে রয়েছে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে প্রথম ইনিংসে লিড পেতে যাচ্ছে শ্রীলংকাই।
শনিবার ৭ উইকেটে ২৬৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা শ্রীলংকা প্রথম সেশনে ১৩.১ ওভারে বাকি ৩ উইকেট হারায়। মাত্র ২৮ রান যোগ করে ২৯২ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস টিম সাউদির বলে টম লাথামের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৭৭ রান। ১২৫ বলে খেলা তার এই ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং তিনটি ছয়। সাউদি ৬৩ রানে ৩টি, ট্রেন্ট বোল্ট ৫১ এবং ডগ ব্রেসওয়েল ৮১ রানে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
মার্টিন গাপটিল এবং টম লাথাম ওপেনিং জুটিতে ৮১ রান তুলে লংকানদের অন্য বার্তাই দিচ্ছিলেন। কিন্তু দুশমন্ত চামারা ক্যারিয়ার সেরা পাঁচ উইকেট তুলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলার পাশাপাশি লংকানদের প্রথম ইনিংসে লিডটাও প্রায় নিশ্চিত করেছেন। নিউজিল্যান্ডের স্কোর ২৩২ পর্যন্ত পৌঁছেছে মূলত শেষের ব্যাটসম্যান মিচেল স্যান্টনার (৩৮), বিজে ওয়াটলিং (২৮), ডগ ব্রেসওয়েল (৩০) এবং ওয়াগনার (১৭) রানের ইনিংসের সৌজন্যে।
অথচ শুরুটা কী দুর্দান্তই হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। গাপটিল ৭৭ বলে নয় চার, এক ছক্কায় ৫০ এবং ৭২ বলে ২৮ রান করেন লাথাম। এরপরই ধস নামে কিউইদের ইনিংসে। দারুণ ফর্মে থাকা কেন উইলিয়ামসন ফেরেন ১ রানে। শুন্য রানে ফেরেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর। ম্যাককালামও মাত্র ১৮ রান করে দলকে বিপর্যয়ে রেখে আউট হন। তারপরও নিউজিল্যান্ডকে বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন লেজের ব্যাটসম্যানরা। ১২.৪ ওভার বল করে ৪৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন চামিরা। রঙ্গনা হেরাথা ২ উইকেট নিয়েছেন ৭৫ রানে। একটি উইকেট পেয়েছেন যথাক্রমে সুরঙ্গা লাকমল এবং নুয়ান প্রদীপ।

