স্পোর্টস ডেস্ক : এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাইকেল হোল্ডিং, ভিভ রিচার্ডস, অ্যান্ডি রবার্টস, স্যার গ্যারি সোবার্স, ডেসমন্ড হেইন্স, গর্ডন গ্রিনিজ, কোর্টনি ওয়ালস, কার্টলি অ্যামব্রোস, ব্রায়ান লারা। একেকটি নাম, একেকজন কিংবদন্তি। স্বর্ণযুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে প্রতিটি দলই বেসামাল হয়ে পড়েছে। অথচ সেই দলই এখন প্রতিটি ম্যাচেই খাবি খাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হোবার্ট টেস্টে ইনিংস এবং ২১২ রানে হেরে বড় লজ্জা দিয়েছে ক্যারিবীয়রা।
ক্রিকেট বিশ্বে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ক্যারিবিয়ানদের নিয়ে সাবেকদের হাহাকার। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন তো উইন্ডিজের এই অবস্থা মানতেই পারছে না। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের স্বার্থেই উইন্ডিজের এখান থেকে বের হওয়া উচিৎ। আসলে তার মতো কোন ক্যারিবীয়ন সমর্থকই দলের ভঙ্গুর চেহারা দেখতে চায় না। কেন একসময়কার প্রতাপশালী দল এভাবে মার খাচ্ছে? প্রশ্নটা অনেক আগেই উঠেছে। কিন্তু সমাধান মিলছে না।
নিজের দেশের জঘন্য পারফরম্যান্স মেনে নিতে পারছেন না অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভোও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) সঙ্গে ক্রিকেটারদের চুক্তি নিয়ে ঝামেলার কারণে ভারতে সিরিজের মাঝপথে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য তখনকার অধিনায়ক ব্রাভোকে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মতো একজন বড় মাপের অলরাউন্ডারকে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দিতেও এতটুকু দ্বিধা করেনি উইন্ডিজ বোর্ড।
ব্রাভো উইন্ডিজের বর্তমান দুর্দশার জন্য দায়ী করছেন বোর্ডকে। তার মতে ,‘মাত্রাতিরিক্ত রাজনীতি আমাদের ক্রিকেটকে খুন করেছে। বিশ্বের সেরা হওয়ার মতো আমাদের খেলোয়াড় আছে। তবে এখানে অনেক কিছুই হচ্ছে।’
বিগব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলতে ব্রাভো এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। তিনি দলে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন ক্রিস গেইলকে। ব্রাভো মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতির আগে বোর্ডের কর্তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার,‘ যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের নিজেদের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আমাদের কোন মাঠ নেই, ভালো নেট কিংবা একাডেমি নেই। এসবই আমাদের পতনের মূল।’
এসব থেকে কিভাবে বের হওয়া যায় তার একটা উপায়ও বলে দিয়েছেন ব্রাভো। তার ভাষায় ,‘ খেলোয়াড়, বোর্ডের সদস্য এবং ম্যানেজম্যান্ট স্টাফদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি দরকার। সম্পর্ক হতে হবে শক্ত এবং গাঢ় এবং তাদেরকে আরও সৎ থাকতে হবে।’

