নিজস্ব প্রতিবেদক : জাল দলিলের মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) তালিকাভুক্ত সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী উপজেলার মো. হযরত আলী মাঝি নামের এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুদকের উপপরিচালক আব্দুছ ছাত্তার সরকারকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় তিনি ইতিমধ্যে টংগীবাড়ী উপজেলার ভূমি অফিস থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাজপত্রও সংগ্রহ ও অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক লোক জায়গাজমি, ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যান ভারতে। পরবর্তী সময়ে সেসব অর্পিত সম্পত্তি বা ভেস্টেড প্রোপার্টি (ভিপি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এইরকম অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল টংগীবাড়ী উপজেলার ৫৪ ও ৩৫ নং মৌজায় যথাক্রমে ০.৫৮ শতাংশ ও ১.০৯ শতাংশ মোট ১ একর ৬৭ শতাংশ জমি। যে জমিগুলো মো. হযরত আলী মাঝিসহ তার পরিবারের সদস্যরা জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করে অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সেসব সম্পত্তি নামজারি করে ভাগ করে নিয়েছেন।
এদিকে মো. হযরত আলী মাঝি সোনারং-টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়নের একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডর বলেও দুদকের আসা অভিযোগে উল্লেখ করা আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই টংগীবাড়ী উপজেলার ভূমি অফিস থেকে অভিযোগে উল্লেখিত জমি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গত ৯ ও ১০ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। এখন তাদের বক্তব্য ও রেকর্ডপত্রগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। আর অভিযোগের বিষয়ে বাকি অনুসন্ধানে শেষে বলা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা মো. হযরত আলী মাঝির ভাতিজা নরুল হক মাঝি বলেন, ‘আসলে ওই সম্পত্তিটি পাকিস্তান আমলে একটি হিন্দু পরিবার আমার দাদির নামে লিখে দিয়ে যায়। এরপর আমার দাদি তার পাঁচ ছেলে নামে লিখে দেয়। আর আমরা যুদ্ধের আগে থেকেই এই জায়গায় বসবাস করে আসছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে মো. জামাল হোসেন নামে জাতীয় পার্টির এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এই জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করার নানা চেষ্টা করছে। এছাড়া আমাদের জমির পাশে ২২ শতাংশ একটি জায়গা এক হিন্দুর ছিল, যাকে তিনি এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠায়। তিনি এখন আমাদেরকেও উচ্ছেদ করার জন্য দুদকে অভিযোগসহ বিভিন্ন জায়গায় মামলাও দায়ের করেছেন। যার মধ্যে কোর্টে একটি মামলা করেছিল। যার রায় গত ১৪/১৫ বছর আগে আমাদের পক্ষে এসেছিল। এখন সে আবার আপিল করেছে। এমনকি এসব মামলা দিয়ে আমাদের জেলও খাটিয়েছে সে।’
তাই আমি বলবো এটা যদি অর্পিত সম্পত্তি প্রমাণিত হয়, তাহলে সরকার আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। জামাল হোসেন কে! আমাদের উচ্ছেদ করার!- বলে যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক আব্দুছ ছাত্তার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটির অনুসন্ধান কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

