সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট-তামাবিল সড়কে বাঁশকল বসিয়ে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে নজিরবিহীন ধর্মঘট পালিত হচ্ছে সিলেটে। নগরীর প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পুরো সড়কে আড়াআাড়ি ট্রাক রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো নগরী।
ট্রাক শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস (লাইটেস) চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।
জ্বালানি পরিবহনে নিয়োজিত ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নও এই ধর্মঘটের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। সবগুলো সংগঠন ট্রাক শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক লাগাতার ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, রাজপথ অবরোধ করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসন তা অপসারণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, ‘যে বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাক শ্রমিকরা ধর্মঘটে নেমেছে সেই বাঁশকলটি জেলা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অবস্থিত। সুতরাং, এ বিষয়ে আমদের কিছুই করার নেই।’
হুমায়ুন রশিদ চত্বরে সড়ক অবরোধের ফলে জনদুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিকল্প পথে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ফলে জনদুর্ভোগ খুব একটা হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, “কী কারণে ধর্মঘট সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে ‘অফিসিয়ালি’ কিছু জানানো হয়নি। আমি যতটুকু জানি দুটি বাঁশকল অপসারণের দাবিতে ট্রাক শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। এটি সমাধানের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। তারা এ বিষয়ে উদ্যোগী হবে। আমরা শুধুমাত্র জেলা পুলিশের অধীনস্ত সড়কগুলোতে জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সোমবার দুপুরে আমরা পরিবহন নেতাদের সাথে বৈঠক করেছি। বৈঠক ফলপ্রসূ হলেও পরবর্তীতে পরিবহন নেতাদের একাংশ ধর্মঘট চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়। ধর্মঘট প্রত্যাহার করানোর লক্ষ্যে এসএমপি কমিশনারসহ প্রশাসন ও পরিবহন নেতাদের সাথে আজ (মঙ্গলবার) আবার বৈঠক করব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট-তামাবিল সড়কে টোল আদায়ের জন্য বসানো বাঁশকল উচ্ছেদসহ ৫ দফা দাবিতে শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সকাল থেকে সিলেট জেলা লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় জেলা ট্রাক পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। এর প্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ সকল আন্তজেলা সড়ক ও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে ট্রাক শ্রমিকরা অবস্থান নেয়।
রোববার রাত ১২টার দিকে তারা হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের সাথে ট্রাক শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়।
ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবরোধে রাত ২টার দিকে কোন কারণ ছাড়াই শ্রমিকদের উপর র্যাব সদস্যরা হামলা করে। এতে অন্তত ১০ ট্রাক শ্রমিক আহত হন। র্যাবের হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা রাত থেকেই হুমায়ুন রশিদ চত্বর অবরোধসহ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
গভীর রাতে হুমায়ুন রশিদ চত্বরে সমাবেশ করে পরিবহন শ্রমিক নেতারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
ট্রাক শ্রমিকদের ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় বাস টার্মিনালে যৌথ সভায় মিলিত হন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিকের সভাপতিত্বে ওই সভা থেকে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
এদিকে, পরিবহন ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকলেও জরুরি ডাক ও পার্সেল পরিবহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি, সংবাদপত্র, সেনাবাহিনী ও আইনশৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত যানবাহন, সংবাদপত্র ও প্রাইভেট গাড়ি ধর্মঘটের আওতামুক্ত বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রকিব উদ্দিন রফিক।

