আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত লিবিয়ার রাজধানী বেনগাজির বিভিন্ন স্কুলে যেতে শুরু করেছে ছাত্ররা। বিভিন্ন সহিংসতার কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে স্কুলগুলো বন্ধ ছিল। সহিংসতার পর রোববার প্রথমবারের মত স্কুলগুলো খুলেছে।
দীর্ঘ দিন পরে স্কুলে যেতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দিত শিশুরা। বেসায়েরে স্কুলে যাওয়ার আগে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রী জানিয়েছে, স্কুলে ফিরে যেতে পেরে সে সত্যিই খুব খুশি।
সরকার বাহিনী এবং জঙ্গিগোষ্ঠীদের মধ্যে ১৮ মাস ধরে চলা সহিংসতার স্থান থেকে মাত্র ৫শ মিটার দূরে ওই স্কুলটি অবস্থিত। বিভিন্ন সহিংসতার কারণে বাধ্য হয়েই স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
ওই স্কুল ছাত্রী খুব আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছে, ‘এখনতো সব কিছুই স্বাভাবিক আছে। আর আমি এখন ভয়ও পাই না। তা স্কুলে যেতে এখন আর নেই মানা।’ স্কুলে যেতে পেরে শিশুদের আনন্দ যেন ধরেই না। আর এমনটা হবেই বা না কেন? কত দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা এসব কিছু যে আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে।
স্কুল খোলায় শিশুদের সঙ্গে তাদের বাবা-মায়েদেরও আনন্দের শেষ নেই। শিশুরা আবার শিক্ষার আলো পাবে এর চেয়ে বড় বিষয় আর তো কিছুই নেই। অনেক বাবা-মা প্রথম দিন শিশুদেরকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন। আবার অনেকে তো ছুটি হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলেন।
২০১১ সালে দেশটিতে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে শহরের স্কুলগুলো বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেসময় সাময়িক সমাধানের জন্য শিশুদেরকে ন্যাশনাল কারিকুলাম অনুযায়ী বাড়িতেই পড়াশুনা করতে বলেছিল শিক্ষা অধিদপ্তর।
তখন বাবা-মায়েরা সরকারি অফিস থেকে শিশুদের বই সংগ্রহ করেছিলেন। শিশুরা স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই পড়াশুনা করছিল এবং শুধু পরীক্ষার সময় স্কুলে উপস্থিত হতো তারা। আসলে তাদের তো আর কোনো উপায় ছিল না। কারণ সহিংসতার কারণে প্রতি নিয়ত আতঙ্কে কাটাতে হতো। দেশটিতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুহারা হয়েছে আরো কয়েক লাখ মানুষ।
বেনগাজিতে ২০১৪ সালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। লিবিয়ার যে কোনো শহরে নিহতের সংখ্যার তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা লিবিয়া বডি কাউন্ট।
ওই শহরের প্রায় ১ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে শহরের মাত্র ২শ ৫৪টি স্কুল পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাস্তুহারা মানুষদের আশ্রয় দিতে শহরের ৬৪টি স্কুল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর তাই সেগুলো এখন খালি করে শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষা বোর্ডের মুখপাত্র।

