স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচের আগ থেকেই মানসিকভাবে পিছিয়ে ছিল বরিশাল বুলস। খেলতে পারছেন না ক্রিস গেইল। সেই সঙ্গে নেই চলতি বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইসও। এর উপর আগে টসে জিতে রংপুর রাইডার্স করল ১৬০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। এমন লক্ষ্য তাড়া করতে পারবেতো বরিশাল?
ভক্তদের মনে নানা শংকাই কাজ করছিল। কিন্তু না, সব শঙ্কা আর দ্বিধা যেন এক ফুতকারে উড়িয়ে দিল সাব্বির-নাফিস জুটি। যে জুটির উপর ভর করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে দ্বিতীয় দল হিসাবে বিপিএলের ফাইনালে নাম লেখালো বরিশাল। বিদায় সাকিবের রংপুর রাইডার্স। আগামী ১৫ ডিসেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও মাহমুদুল্লার বরিশাল বুলস।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বরিশালের। ১০ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও গেইলের জায়গায় নামা শ্রীলংকার সিকুজি প্রসন্ন। ৬ বলে ২ রান করে আরাফাত সানির শিকার রনি। আর ৯ বলে ৭ রান করে সাকিবের বল এলবিডব্লিউর শিকার হন প্রসন্ন।
তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বরিশালকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেয় হার্ড হিটার সাব্বির রহমান ও শাহরিয়ার নাফিস। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১২৪ রান। দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে ফিরে যান ফিফটির কাছাকাছি চলে যাওয়া নাফিস। ৪০ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।
এরই মধ্যে ফিফটি করে দুর্দান্ত গতিতে আগাতে থাকেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত তিনি থামেন ৭৯ রান করে। ৪৯ বলে সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান সাব্বির। দলীয় রান তখন ৪ উইকেটে ১৪১। কিছুটা থমকে যায় বরিশালের অগ্রযাত্রা। দলীয় ১৪৭ রানে আউট হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও (৫)।
তবে শেষটা মধুর করেছেন বরিশালের দুই বিদেশী। এমরিট ও কুপার শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। পেরেরার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বরিশালের জয় নিশ্চিত করেন কুপার। ১৯.৩ ওভারে বরিশালের রান দাঁড়ায় ১৬৩। কুপার ১০, এমরিট ৭ রানে থাকেন অপরাজিত। ম্যাচ জয়ী দুর্দান্ত ৭৯ রান করার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন বরিশালের হার্ড হিটার সাব্বির রহমান।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই হয় রংপুরের। উদ্বোধনী জুটিতে সিমন্স ও আল মামুন তোলে ৫২ রান। ২৩ বলে ২০ রান করে প্রসন্নর বলে আউট হন গোটা বিপিএলে প্রায় সাইড বেঞ্চে বসে কাটানো আল মামুন। এরপর ওয়ান ডাউনে এসে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকারও। ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে তিনি হন কুপারের শিকার।
তবে অধিনায়ক সাকিব আর হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই আগানোর আভাস দিয়েছিলেন সিমন্স। বেশীদূর আগাতে পারেননি সাকিব। ১০ বলে ১৩ রান করে আল আমিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রংপুরের অধিনায়ক। দলীয় রান তখন ১১৪।
এক প্রান্ত আগলে রেখে সাবলিল ব্যাট চালাতে থাকেন লেন্ডল সিমন্স। তার ব্যাটেই রংপুরের ইনিংস শক্ত হয়। দলীয় ১২৫ রানের মাথায় বিদায় নেন সিমন্স মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হয়ে। তবে তার আগে করে যান ৫৭ বলে ৭৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। এর মধ্যে ছিল নয়টি চার ও দুটি ছক্কার মার।
এরপর মোহাম্মদ নবীর সঙ্গে ড্যারেন সামি রানের চাকা সচল রাখেন। তবে উইকেট পড়ার মোড়ক লাগে শেষ ওভারে গিয়েই। এই ওভারে চারটি উইকেটের পতন হয় রংপুরের। ১০ বলে সামি করেন ২৩ রান। ছয় বলে নবী করেন ৮। পরের দুই ব্যাটসম্যান সজীব ও মিথুন এক রান করেই রান আউট। বরিশালের হয়ে চার ওভারে ৩৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট লাভ করেন কুপার। সামি, আল আমিন ও প্রসন্ন নেন একটি করে উইকেট।

