স্পোর্টস ডেস্ক : সবার আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শনিবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৭২ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। শুরুতে ব্যাট করে ইমরুলের হাফসেঞ্চুরি ও এসার জাইদির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সাত উইকেটে ১৬৩ রান করে কুমিল্লা। জবাবে রংপুর ১৮ বল বাকি থাকতেই ৯১ রানে অলআউট হয়েছে।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যস্ত ছিল রংপুর রাইডার্স। এসার জাইদির ও আবু হায়দার রনির দ্বিমুখী বোলিং আক্রমণে একের পর এক উইকেট হারায় সাকিব বাহিনী। ব্যর্থতার মিছিলে একে একে যোগ দেন লেন্ডল সিমন্স, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে দুই অঙ্ক ছূঁয়েছেন শুধু সিমন্স (২৫)। তাই শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর।
সেই চাপ আর কাটিয়ে ওঠতে পারেনি রংপুর। বরং নিয়মিত বিরতিতে আউট হয়েছেন দলটির ব্যাটসম্যানরা। সাকিব আউট হওয়ার পর খানিকটা সময় মোহাম্মদ নবী ও জহুরুল নতুনভাবে শুরুর চেষ্টা করেন। তবে নবীর উইকেট আবু হায়দার তোলে নিলে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। নবী আউট হওয়ার পর জহুরুল, আল-আমিন, পেরেরা ও স্যামি যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শেষ উইকেট জুটিতে আরাফাত সানি ও সাকলায়েন সজীব কিছুটা সময় নিলেও তা শুধু কুমিল্লার জয়ের প্রহর গণনাকে খানিকটা দীর্ঘ করেছে। শেষ পর্যন্ত আবু হায়দারের বলে আরাফাত সানি বোল্ড হলে ৯১ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে আবু হায়দার ১৯ রানের বিনিময়ে চারটি এবং জাইদি ১১ রানে সমান চারটি উইকেট নেন। সেই সুবাদে টুর্নামেন্টে ২১ উইকেট নিয়ে এখন সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক আবু হায়দার রনি।
এর আগে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টস হেরে শুরুতে শুরুতে ব্যাট করে কুমিল্লা। নির্ধারিত ওভার শেষে তারা সংগ্রহ করে সাত উইকেটে করে ১৬৩ রান। কুমিল্লার ইনিংসের শুরুর দিকে দুর্দান্ত খেলেন ইমরুল কায়েস। আর শেষ দিকে এসার জাইদির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কুমিল্লা লড়াকু ইনিংস খেলতে সক্ষম হয়। মাত্র ৩৩ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কার মারে ইমরুল পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ইমরুল হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরও খেলছিলেন দুর্দান্ত গতিতেই। তবে যেতে পারেননি খুব বেশিদূর। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১০৭ রানে পেরেরা বলে কট এন্ড বোল্ড হয়ে যান। আউট হওয়ার আগে ৪৮ বলে সাতটি চার ও দুটি ছক্কার মারে করেন ৬৭ রান।
ইমরুল আউট হওয়ার পর একই ওভারের শেষ দুই বলে আন্দ্রে রাসেল ও আহমেদ শেহজাদের উইকেটও তোলে নেন পেরেরা। এতে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগে তার। দিনের শেষ ওভারের প্রথম বলে উইকেট শিকার করে সেই হ্যাটট্রিক অবশ্য পূর্ণ করতে পারেননি এই লঙ্কান বোলার। তবে পরপর কয়েকটি উইকেট হারিয়ে হঠাৎই চাপ সৃষ্টি হয় কুমিল্লা শিবিরে। এরপর এসার জাইদি ব্যাটে ঝড় তোলেন। মাত্র ১৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার মারে ৪০ রান করে অপরাজিত থেকে কুমিল্লাকে লড়াইয়ে ফেরান তিনি।
ব্যাটিংয়ের শুরুতে লিটন-ইমরুল জুটি ওপেনিংয়ে ৭৯ রান করেন। এরপর লিটন আউট হলে কুমিল্লা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা চমক দিয়েই নামেন ব্যাটিংয়ে। তবে সুবিধা করতে পারেননি। এক রান করেই আউট হয়ে ফিরে গেছেন সাজঘরে। কুমিল্লার অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে লিটন ৩৭ বলে ২৮ ও শুভাগত হোম পাঁচ বলে করেন ১২ রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে থিসারা পেরেরা ২৬ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর সাকলায়েন সজীব ও মোহাম্মদ নবী একটি করে উইকেট নিয়েছেন। সজীব ১৯ রান দিলেও নবী ৩৯ রানের খরুচে বোলিং করেন।
বিপিএলে প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ হয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর। এবার শুরু হল শেষ চারের লড়াই। সেই লড়াইয়ের শুরুতেই জয়ে নিয়ে সরাসরি চলে গেল কুমিল্লা। তবে রংপুরের জন্য থাকছে আরেকটি সুযোগ। শনিবার দিনের অপর ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস ও বরিশাল বুলস মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে যে দল জিতবে তাদের সঙ্গে রংপুরের আরেক দফা লড়াই হবে। ১৩ ডিসেম্বর সেই লড়াইয়ে যে দল জিতবে তারা দ্বিতীয় দল হিসেবে যাবে ফাইনালে। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

