ঢাকাFriday , 11 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘নিজের অন্বেষণ করো, নিজের মতো হও’

Link Copied!

tamashaবিনোদন ডেস্ক : যখন কোন পরিচালকের নতুন আর কিছু বলার থাকে না তাকে তখন একই বৃত্তে আবর্তিত হতে হয় । তামাশা’র প্রথমার্ধ দেখতে দেখতে ধারণা দৃঢ় হচ্ছিল এ নির্ঘাত ইমতিয়াজ আলীর রাইটিং ব্লক কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা! কারণ চিত্রনাট্য তখনও ‘লাভ আজকাল’-ককটেলের নাল-ভাঙ্গা সুতা । অনেকটা ‘তামাশা’-র ট্যাগলাইন ‘একই গল্প আবার কেন’র মতো!  কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গল্প যখন নির্দিষ্টে মোড় নিলো, ফলশ্রুতিতে যে উপপাদ্য প্রমাণের চেষ্টা হলো তা মাধ্যমিকের কোন উপপাদ্য প্রমাণের চেয়েও জটিল আবার সহজও!
ইমতিয়াজ এই ছবি দিয়ে বস্তুত কি বলতে চেয়েছেন? সৃষ্টিকর্তা আমাদের সাধারণ কেউ হওয়ার জন্য তৈরি করেন নি..। নিজেকে অন্বেষণ করো, নিজের মতো হও – এই গল্পের মূলকথা । পৃথিবীতে আমাদের জন্মের পর জানিয়ে দেয়া হয় তুমি এমন এক পৃথিবীতে এসেছো সেটি এক দৌড়ের ময়দান ছাড়া আর কিছু নয় । অতএব এতকিছু না ভেবে দৌড়ে লেগে পড়ো । যত আগে দৌড় শুরু হবে তত আগে আসবে সফলতা । এই-ই জীবনের বাস্তবতা!
পরিচালক তার ছবির বর্ণনায় তিনটি সময়কে (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) যেমন এনেছেন তেমনি তার মূল চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের পূর্ণতা দিতে তিনটি পর্যায়কে ব্যাখ্যা করেছেন । প্রথমেই যাই মূল চরিত্র ভেদের কর্পোরেট জীবনে । যে জীবন যন্ত্রের মতো । সে জীবনে আমরা কেবল দৌড়ে যাচ্ছি তবে কিসের জন্যে তা জানি না । সবাই দৌড়াচ্ছে তাই জানি দৌড়তে হবে । থামলেই পিছিয়ে পড়ার ভয় । আমরা দেখতে পাই নিত্যদিনকার কাজ সে রুটিন ধরে করে যায় । এই যান্ত্রিক জীবনের মধ্যে যে গভীর শূন্যতা রয়েছে সেটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তখন যখন সে চেনা অবয়বে প্রতিফলিত। এ প্রতিফলন মনে দ্বিধা আনে । নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় জাগে । কেন, প্রশ্ন আসে, কেউ বলেনি তুমি ‘অন্য’ কেউ? হ্যাঁ কেউ একজন ছিল ।
সে ছিল এক বিষধারী সাপ । ফনা উঁচিয়ে কৌতুহল চোখে এদিক ওদিক করে । সে শৈশবের মতো । শৈশব শোনায় গড়পড়তা জীবনকে ডিঙ্গাবার গল্প । নিজের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে চিনতে বলে । বলে একইরূপ গল্পে মিশে গেলে হবে না, নিজের গল্প পৃথক করো । নিজের ভেতরকার শিশুকে বাঁচিয়ে রাখো । কান পেতে শুনো সে কি বলে । ‘জেগে ওঠো, আর ঘুমিও না, বেরিয়ে পড়ার সময় এসেছে।’ দেখা মেলে তৃতীয় পর্যায়ের । এ পর্যায় জানায় শুধু বেঁচে থাকার নাম জীবন নয় ।
তুমি অন্য কেউ
তুমি প্রান্তহীন
তুমি আকাশ, তুমি এক চিন্তা
তুমি অনুপম
তুমি এক ঢেউ, তুমি উদ্ভাসিত
তুমি তোমার মতো কেউ ।
তামাশা ছবির সর্বেসর্বা রনবীর কাপুর । কেবল চরিত্রের ব্যাপ্তিতে নয় বরং চরিত্রের অন্তর্নিহিতে । ভেদ চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব ব্যাখ্যায় পরিচালক অলঙ্কার হিসেবে আয়না ও ছায়ার ব্যবহার দেখিয়েছেন তবে সবচেয়ে জুতসই অলঙ্কার সম্যক্ রনবীর নিজেই । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনোলোগ বলা, তারা’র সাথে তর্কের সময় দীর্ঘদিনের আটকে পড়া হতাশা বের হয়ে আসা, বসের রুমে দ্বৈত সত্তা দ্বন্দ্বের প্রকাশ – ভেদ চরিত্রের প্রায় প্রতি দৃশ্যেই আমরা চরিতার্থ । দীপিকা (তারা) ছিলেন ভেদের চেনা অবয়বে প্রতিফলনের ‘মাধ্যম’ হিসেবে ।
কয়েক দৃশ্যে পরিচালক অবশ্যই বাহবা আদায় করেছেন যেমন, ‘আগার তুম সাথ হো’ গানে বিশেষ করে ওই দৃশ্য; যেখানে টেবিলে মাথা নুইয়ে প্রথমে তারার দিকে মাথা ঘুরিয়ে ভেদের নিজেকে দেখতে পাওয়া আবার পরক্ষণেই অপরদিকে মাথা ঘুরিয়ে অন্যসত্তায় চলে যাওয়া । নিজের এত কাছে তবু কত দূরে – দুর্দান্ত । আবার যেখানে ‘ওয়াত ওয়াত’ গানে রিপিটেড কাট শটে কয়েক মিনিটেই পুরো কর্পোরেট জীবনের একঘেয়েমি-কে তুলে আনেন সেখানে কেবল প্রধান দুই চরিত্রকে চেনাতে প্রায় প্রথমার্ধ ব্যয় করা নিতান্তই অযথা ।
তোমার কি চাই এর উত্তর তুমিই ভালো জানো কিন্তু আমাদের সমাজে এর কারণ খোঁজা বিদ্রূপ বটে! এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি কি হতে চাই হয়ে যায় বিলাসিতা, লোকে আমাকে কি দেখতে চায় হয়ে যায় বাস্তবতা আর মাঝখানে পড়ে আমি হই তামাশা!