গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা : বরগুনা শহরের উপকন্ঠে দক্ষিন খাজুরতলা গ্রামে একটি ভূয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পায়তারা করছে একটি মহল। এমন অভিযোগ এলাকাবাসির। উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় পর্যন্ত দেয়া এক লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য জানাগেছে। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে স্থানীয় ২ জন জমি দাতা হাবিবুর রহমান ও সেলিম মূছা ‘খাজুরতলা হাজ্বী বাড়ি মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এর নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই স্থানের নিকটতম কয়েকটি স্থানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকাসহ সরকারের দেয়া বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে না পারায় বিদ্যালয়টি রেজিষ্ট্রেশন করাতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠাতারা স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সকল রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ জাতীয় করণ করায় স্থানীয় একটি চক্র ওই স্কুলের জমির দলিল ব্যবহার করে, ওই নামেই নতুন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পায়তারা চালাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, ওই কুচক্রী মহলটি চার জন শিক্ষকে চাকুরী দেয়ার নামে তাদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকাবাসী আরো জানায়, জমিদাতাদের অজ্ঞাতসারে ওই কুচক্রী মহলটি শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন অফিসে লাখলাখ টাকা খরচ করে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন সহ কাগজপত্র তৈরী করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছে। বিষয়টি জমিদাতারা জানতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, বিভাগীয় শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং দূর্নীতিদমন বিভাগে অবহিত করে আবেদন করেছেন। এদিকে স্কুল প্রতিষ্ঠা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, তিনজন শিক্ষক ছাত্রছাত্রী বিহীন একটি সদ্যতোলা তিন কক্ষ বিশিষ্ট বিশাল সাইনবোর্ড লাগানো কাঠের ঘরে বসে আছেন। মঙ্গলবার বার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিনে স্কুলটিতে কোন ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কোন কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। পরীক্ষার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের নামে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্ন পত্র ছাড় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সহকারি শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

