চট্টগ্রাম প্রতিবেদক : ভারতের পাঞ্জাব থেকে শিখ সম্প্রদায়ের ৩২ জন পুণ্যার্থী বাংলাদেশে এসেছিলেন বিভিন্ন মন্দির-উপাসনালয় দর্শন করতে। কিন্তু পুণ্যের খোঁজে এসে অস্ত্রের মুখে পড়তে হলো তাদের। শুধু তাই-ই নয়, দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হতে হলো দুজনকে। খোয়াতে হলো নগদ অর্থসহ মোবাইলও।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের টেরিহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জখম দুজন হলেন যোগিন্দর সিং (৪৫) ও অমরজিৎ সিং (৫৫)। আহত অবস্থায় তারা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ভারতের পাঞ্জাব থেকে চট্টগ্রামের চকবাজারস্থ শিখ টেম্পল দেখতে এসেছিলেন ৩২ সদস্যের একটি তীর্থদল। তারা চারটি হাইচ মাইক্রোযোগে ঢাকায় যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ডের টেরিহাটে ডাকাতের কবলে পড়ে। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে দুজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে টাকা আর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। খবর পেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের পুলিশি প্রহরায় ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’
তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার।
জানা যায়, ভারতের পাঞ্জাব থেকে শিখ সম্প্রদায়ের একটি দল তীর্থ দর্শনে সড়কপথে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ৩২ সদস্যের এ দলটি ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের শিখ মন্দির পরিদর্শনের জন্য ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছান।
গত ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের চকবাজার জয়নগরের গুরুদুয়ারা শিখ মন্দির পরিদর্শনে আসেন। সেখান থেকে সোমবার রাতে চারটি হাইচ মাইক্রোযোগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ডের টেরিহাট এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গাড়িবহরে ডাকাতদল হানা দেয়। এ সময় তারা প্রথমে গাড়ির যাত্রীদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ভারতীয় রুপি ও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
আজ (মঙ্গলবার) তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গুরুদুয়ারা নানক মন্দির পরিদর্শনের কথা ছিল।
পুণ্যার্থী দলে এক সদস্য নারায়ণ রবি দাশ পাপ্পু বলেন, ‘আমাদের বহনকারী ৪টি মাইক্রোবাসকে গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে গাড়িতে ঢিল ছোড়ে তারা। এরপর রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের। পরে দুজনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নগদ ৪৫ হাজার ভারতীয় রুপি, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।’
পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে মিরসরাইয়ের সেবা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জখম হওয়া ওই দুই ভারতীয়সহ সকলকে পুলিশি প্রহরায় ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়।

