ঢাকাTuesday , 8 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীদের
কয়রা থানার ওসির বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য

Link Copied!

Koyra thana_1নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা জেলার কয়রা থানার ওসি হরেন্দ্রনাথের ঘুষ বাণিজ্যের শিকার ভুক্তভোগীরা নিরবে নিভৃতে কাঁদছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওসি হরেন্দ্রনাথ প্রতিদিন তার পছন্দের এসআই কিংবা কনস্টেবলদের দিয়ে এলাকার নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় লোকজন যারা ঐ এলাকায় আর্থিকভাবে সচ্ছল এমন লোকজন ধরে এনে রাজনৈতিক রং দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সাদা কাগজে কারো জিম্মায় ছেড়ে দেন এবং বলেন টাকা পয়সার বিষয়টি কাউকে জানালে পেন্ডিং মামলায় ঢুকিয়ে জীবনে শেষ করে দিব।
ওসি হরেন্দ্রনাথ তার মনোনীত দালাল রেজাউল এবং টেক্কার মাধ্যমে অর্থের লেনদেন করেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর এই ওসি টাকার জন্য এহেন কাজ নেই করতে পারেন না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওসি হরেন্দ্রনাথ কয়রা উপজেলার বিত্তশালীদের টার্গেট করে তালিকা প্রস্তুত করেছেন এবং ঐ তালিকানুযায়ী তার বিশ্বস্ত এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলদের দিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় নানারকম দেনদরবার। বলতে গেলে কয়রা থানা এখন পুলিশী টর্চার সেল।
ওসি হরেন্দ্রনাথের ঘুষ বাণিজ্য ও নির্যাতনের শিকার অসংখ্য ব্যক্তি গতকাল দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীই নন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নয় তার নির্যাতনের হাত থেকে। তুইতোকারী আর গালিগালাজ তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। গোপনে ওসি হরেন্দ্রনাথের অপকর্ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তার অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মনে করেন। গতরাতে এ ব্যাপারে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস,এম মনির-উজ-জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ওসির হাতে যারা নির্যাতিত তারা যেন তার সাথে দেখা করেন। জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওসি হরেন্দ্রনাথের অপকর্মের ফিরিস্তি নিজেই দৈনিক পাঞ্জেরীকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওসি হরেন্দ্রনাথের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমার একার পক্ষে ব্যবস্থা নেয়া একটু কষ্টসাধ্য। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, যারা অন্যায়ভাবে মানুষের উপর নির্যাতন কিংবা জুলুম করবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। খুলনা জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ওসি হরেন্দ্রনাথের কুকীর্তির কারণে বিব্রত। আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে বলে তারাও দাবি করেন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল আরও বলেন, নিরীহ কোনো মানুষ পুলিশের হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র জানায়, খুলনা জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ওসি হরেন্দ্রনাথের দুর্বৃত্তায়নের কারণে লোকলজ্জায় মুখ আড়াল করেন। পুলিশ জনগণের বন্ধু। শান্তিপ্রিয় মানুষ পুলিশকে শ্রদ্ধা করে। কিন্তু ওসি হরেন্দ্রনাথের মতো কতিপয় দুর্বৃত্তায়ন পুলিশ সদস্যের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি বিভিন্ন সময়ে সংকটে পড়েছে। কয়রা উপজেলা জামায়াত অধ্যুষিত হওয়ার কারণে জামায়াতের নামে নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় লোকজনকে ধরে এনে চালানো হচ্ছে নির্যাতন এবং তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল এ প্রতিবেদক স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা বলেন। তারাও ক্ষুব্ধ ওসি হরেন্দ্রনাথের অপকর্মের কারণে। গতকাল কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ওসি হরন্দ্রেনাথের ঘুষ বাণিজ্য ও নিরীহ লোকজনের উপর নির্যাতনের কথা অকপটে স্বীকার করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ওসির অপকর্মের গোপন তদন্তও দাবি করেন। তারা গতকাল রাতে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অবিলম্বে ওসি হরেন্দ্রনাথের সকল অপকর্মের তদন্ত করতে হবে এবং পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদার ওসি হরেন্দ্রনাথের কর্মকা-ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গতকাল উপজেলার উত্তর বেতকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গনেশ চন্দ্র ম-লও ওসির অনৈতিক কর্মকা- সম্পর্কে ফিরিস্তি দেন। তিনি বলেন, আমরা এলাকাবাসী সুখে শান্তিতে বসবাস করলেও ওসি হরেন্দ্রনাথের কারণে আমাদের মান সম্মান ধুলায় মিশে গেছে। তিনিও অবিলম্বে ওসি হরেন্দ্রনাথের শাস্তি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই অঞ্চল জামায়াত অধ্যুষিত বিধায় ওসি জামায়াতের নামে নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসীর মধ্যে যারা বিত্তশালী তাদেরকে নানা কৌশলে ধরে নিয়ে আসেন থানায়। তারপর শুরু হয় ওসির সামারি বাণিজ্য।
ওসির নির্যাতনের হাত থেকে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে যত দ্রুত সম্ভব আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দের নজরে এনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন গনেশ চন্দ্র ম-ল। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কয়রা উপজেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে অশান্তির বিষবৃক্ষ ছড়িয়ে দিয়েছেন ওসি হরেন্দ্রনাথ। কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ওসি হরেন্দ্রনাথ অপরাধী দমনের নামে সামারি বাণিজ্যে নেমেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগকেও শোষণ করছেন বলে তারা দাবি করেন। এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে কয়রা থানার অভিযুক্ত ওসি হরেন্দ্রনাথের সাথে গতকাল তার মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।