কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজনকে ‘শায়েস্তা’ করতে গিয়ে ‘ভুল করে’ সুজন নামে (১৭) এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে আহত করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় সুজনের। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে ‘ভয়েই’ আত্মহত্যা করেন দুর্বৃত্তদের একজন। এরপর দুই পরিবারের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় স্থানীয়রা। এসময় পুলিশ জনতার ওপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে বোয়ালদাহ গ্রামের রিংকু নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার সকাল থেকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে মোবেরের মোড়ে এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ঘাতক ও আত্মহননকারী পলাশের (২১) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মৃত পলাশ ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের শালদহ গ্রামের মিন্টু শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফলের ব্যবসা করতেন। সেখানে দায়দেনা হয়ে গেলে দুই মাস ধরে তিনি তার হরিপুরে নানা মৃত আলম প্রামাণিকের বাড়িতে থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘সকালে উপজেলার বোয়ালদাহ মোড়ের বদর উদ্দিনের ছেলে সুজন স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পলাশ। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পলাশকে ধাওয়া করলে তিনি তার মামাতো ভাই বাদশার ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। এরপর এলাকাবাসী পুলিশসহ একত্রিত হয়ে তাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোনো সাড়া না পেলে পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পলাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘হাটশ হরিপুর গ্রামে রোববার সকালের দিকে পলাশসহ আরো কয়েকজন দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনকে কুপিয়ে জখম করে। তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়।
তিনি আরো জানান, স্থানয়ীরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পুলিশ পলাশের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলেও জানান তিনি।

