আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত নিউইয়র্কের বিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টি নাকি এক আরব নারীর আদলে তৈরি করা হয়েছিল! ফরাসি ভাস্কর প্রথমে মিশরের একটি প্রকল্পের জন্য ওই নারীর ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে এএফপি জানিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া ও অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশ থেকে শরণার্থী প্রবেশ নিয়ে চলমান বাকবিতর্কের মধ্যে চমকপ্রদ এই তথ্য আবিষ্কার করলেন গবেষকরা ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ফরাসি ভাস্কর ফ্রেডেরিক অগাস্টি বার্থোলদি ১৮৫৫ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত মিশর সফর করেছিলেন। তিনি সেখানে বেশ কিছু বিশাল আকৃতির স্মৃতিস্তম্ভ ও খোদাই ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। মিশরীয় সরকার যখন ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খালের জন্য একটি লাইট হাউস নির্মাণের কথা ভাবছিল, বার্থোলদি তখন একটি বিরাট নারী মূর্তির ডিজাইন করেন। ঢিলেঢালা জামা পরা মূর্তিটির হাতে একটি মশাল ছিল। তিনি এই মূর্তির নাম দেন ‘মিশর এশিয়ার জন্য আলো নিয়ে এসেছে’। তিনি ‘ঘোমটা দেয়া এক চাষীবৌ’কে দেখেই এই মূর্তির ডিজাইন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি পাহারার দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল গার্ড।
এ সম্পর্কে গবেষক ব্যারি মোরেনো লিখেছেন, তখন বার্থোলদি সিরিজ চিত্র এঁকেছিলেন যার মধ্যে ওই চাষী বৌয়ের ছবিটিও ছিল। তখন মিশরের জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ ছিলেন মুসলিম।
পরে ফরাসি ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড ডি লাবোলাই যুক্তরাষ্টকে ফরাসি জনগণের তরফ থেকে একটি পুরস্কার দেয়ার জন্য একটি ভাষ্কর্য নির্মাণ করার প্রস্তাব দেন। যে ভাস্কর্যে ফরাসি বিপ্লবের প্রধান সুর ‘স্বাধীনতা’র বার্তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছিল। ১৮৭০ সালে বার্থোলদি তার আগে মূর্তির অনুকরণে স্ট্যাচু অব লিবার্টি নির্মাণ করেন। ১৮৮৬ সালে এটি উন্মোচন করা হয়।

