ঢাকাWednesday , 25 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেসরকারিভাবে এলএনজি আমদানির সুযোগ মিলছে

Link Copied!

LNGনিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে বিকল্প উৎস হিসেবে সরকার আগেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বেসরকারি পর্যায়েও এলএনজি আমদানির অনুমতি মিলবে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এ বিষয়ে এক মাসের মধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
গত ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পেট্রোবাংলার কার্যালয়ে জ্বালানি বিভাগ এবং এর অধীনস্ত দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি বেসরকারি কোম্পানি এলএনজি আমদানির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমদানি নীতিমালা ২০১২-২০১৫-তে এ বিষয়ে অনুমতিও দেওয়া আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।’
বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, দেশের গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুতের জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমছে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১০ সাল থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। টার্মিনাল স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রা ওয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করছে পেট্রোবাংলা। আগামী মাসে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে।
প্রাথমিক চুক্তিতে রিগ্যাসিফিকেশনের মূল্য ৪৭ সেন্ট ধরা হয়েছে। মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে এ টার্মিনাল নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে অ্যাস্ট্রা অয়েল। ওই প্রতিষ্ঠানটির কাজ শেষ করতে ১৬ মাস সময় লাগবে। এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। টার্মিনালটি ১৫ বছর অ্যাস্ট্রা অয়েলের মালিকানায় থাকবে। এরপর মালিকানা পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ উদ্যোগটির পাশাপাশি জ্বালানি বিভাগ ভূমিবেষ্টিত (ল্যান্ড বেজড) আরো দুটি টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ আইন-২০১০ এর আওতায় দরপত্র ছাড়াই এ দুই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে দর কষাকষি করতে গত ৪ নভেম্বর জ্বালানি সচিবকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
টার্মিনাল দুটি মহেশখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকায় নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুসারে প্রতিটি টার্মিনাল এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন (পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর) ক্ষমতার হবে। ভূমিবেষ্টিত এলএনজি টার্মিনালের প্রাক সাম্ভাব্য যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা মিলবে। পায়রা বন্দর এলাকায় টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণে নৌ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহায়তাও চেয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
জানা গেছে, অনেক বিদেশি কোম্পানি টার্মিনাল নির্মাণে জ্বালানি বিভাগের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে। এর মধ্যে ভারতে রিলায়েন্সসহ চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের অনেক কোম্পানি রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলও মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে একটি ভূমিবেষ্টিত এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বছরে ৩৫ লাখ টন এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের ক্ষমতাসম্পন্ন টার্মিনাল নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৫টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্য থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে পাওয়ার সেল। এগুলো হলো ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি, অ্যাংলো-ডাচ সুপার মেজর শেল, চীনা হুয়াংকিউ কনট্রাকটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বেলজিয়ামের ট্র্যাক্টেবেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাপানের মিত্সুই।
সরকার আশা করছে, ২০১৭ সালের দিকে দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজির কারণে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কারণ দেশীয় গ্যাসের চেয়ে এলএনজির সরবরাহ মূল্য বেশি হবে।