নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২য় কাঁচপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতি সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে। জাপানের সহায়তায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের কাজ আগামী ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে জাপানি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওবায়াশি করপোরেশন, শিমিঝু করপোরেশন, জেএফফ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং আইএইচআই ইনফাসট্রাকচার সিস্টেম করপোরেশন লিমিটেডের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জেন্টা তাবে চুক্তিপত্রে সই করেন। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সেতুগুলোর ২ বছরের ডিফেক্ট লায়েবেলিটি কালসহ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৩ সালের এপ্রিল হতে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
১৯৭৮ সালে কাঁচপুর, ১৯৯১ সালে মেঘনা সেতু ও ১৯৯৫ সালে গোমতী সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ সেতুগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হলে সরকার এগুলো নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও বহুগুণ রেড়েছে, যা এর ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার এএডিপি-কে ২০১২ সালেই অতিক্রম করেছে। কাঁচপুর সেতু-৪ লেন বিশিষ্ট এবং মেঘনা ও গোমত সেতু দু’টি ২ লেন বিশিষ্ট। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর সড়কাংশ ৮ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪- লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প সমাপ্তি পর পুরাতন সেতুসমূহের স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে বিধায় নতুন-৪ লেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়ে।’
এ ছাড়াও সেতুসমূহ পুরাতন সিসমিক (ভূমিকম্প) কোড অনুযায়ী নির্মিত। তাই নতুন করে সিসমিক কোড অনুযায়ী সেতুসমূহ পুনর্বাসন করা প্রয়োজন। ঢাকা হতে চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সহজ করার লক্ষ্যে কাঁচপুর ইন্টারসেকশনে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ডিপিপি গত ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে একনেক অনুমোদন করে বলে মন্ত্রী জানান।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সওজ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রকল্পটি চারটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়েছে
১. কাঁচপুর সেতু : ৭০৩.৫০ মিটার ৮-লেন বিশিষ্ট অ্যাপ্রোচ সড়ক, কাঁচপুর ইন্টারসেকশন উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঁচপুর প্রান্তে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ শীতলক্ষ্যা নদীর ওপরে ৩৯৭.৩০ মিটার ৪-লেন বিশিষ্ট ২য় কাঁচপুর সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন কাজ। নতুন সেতু নির্মাণকাল-৩০ মাস।
২. মেঘনা সেতু : ৮৭০ মিটার ৬ লেন বিশিষ্ট এপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ মেঘনা নদীর ওপরে ৯৩০ মিটার ৪ লেন-বিশিষ্ট ২য় মেঘনা সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন কাজ। নতুন সেতু নির্মাণকাল ৩৬ মাস।
৩. গোমতী সেতু : ১০১০ মিটার ৬ লেন বিশিষ্ট অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ গোমতী নদীর ওপরে ১৪১০ মিটার ৪ লেন বিশিষ্ট ২য় গোমতী সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন কাজ। নতুন সেতু নির্মাণকাল ৩৬ মাস।

