স্পোর্টস ডেস্ক : তাকে ওয়াসিক আকরামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। বলা হচ্ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উদীয়মান পেস বোলার হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আমির। সেটা পাঁচ বছর আগের কথা। এরপর তো সবই যেন ইতিহাস। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে ক্রিকেট থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি।
সেই পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। তবে তার আগে গত জানুয়ারি থেকেই ফিরেছেন পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে। এখন রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায়। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে না পারলেও পাকিস্তানের বাইরে গিয়ে প্রথম একটি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়ে গেলেন আমির। যেখানে পাঁচ বছর পর এই প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের বাইরে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করার সুযোগ পেলেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বাংলাদেশের ঘরোয়া জমজমাট এই টুর্নামেন্টে চিটাগাং ভাইকিংসই কিনে নিয়েছে পাকিস্তানের এই পেসারকে এবং বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই খেলতে নামলেন মোহাম্মদ আমের।
চিটাগায় ভাইকিংসের ব্যাটসম্যানরা ১৮৭ রানের বিশাল স্কোর করার পর সেটাকে রক্ষা করতে অধিনায়ক তামিম ইকবাল শুরুতেই বল তুলে দিলেন মোহাম্মদ আমিরের হাতে। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড! সেই আমিরই তো পাঁচ বছর পর একই ধার এবং ঝাঁঝ নিয়ে হাজির হয়ে গেলেন মিরপুরে।
দর্শকরা অবাক হয়ে দেখলো আমিরের ঝাঁঝ। বোলিংয়ে যেন আগুন ঝরাচ্ছেন তিনি। রানআপ হালকা কমিয়েছেন। চুলের স্টাইলে এসেছে পরিবর্তণ। বাবরি দোলানো ঝাঁকড়া চুল নেই। সেখানে ছোট ছোট ছাঁটানো চুল। তবে রান আপ কিংবা চুল কমালেও আমিরের বোলিংয়ে আগুন একটুও কমেনি।
প্রথম ওভারেই বল করলেন ল্যান্ডল সিমন্সকে। পুরো ওভারে আমিরের কাছ থেকে কোন রান নিতে পারলেন না সিমন্স। এরপর দ্বিতীয় ওভার করলেন তাসকিন আহমেদ। এ ওভার থেকে সৌম্য সরকার নিলেন ১৭ রান।
নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসলেন মোহাম্মদ আমির। এ ওভারে যেন আরও বেশি অগ্নিমুর্তি ধারন করলেন তিনি। ওভারের ৫ম এবং শেষ বলে পরপর দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। সিমন্সকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন তামিমের হাতে। সৌম্য সরকারকে করলেন এলবিডব্লিউ। প্রথম স্পেলে ২ ওভার বল করে ৫ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। সঙ্গে এক ওভার দিলেন মেডেন।

