বিনোদন প্রতিবেদক : সুশ্রী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। একের পর এক দর্শনন্দিত নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পেয়েছেন দর্শকদের ভালোবাসা। ছোটপর্দায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তার। ছয়টার মতো সিরিয়ালে অভিনয় করছেন। আছে একটি এককও। হালের দেশিয় বাংলা নাটক নিয়ে তিনি প্রচন্ড আশাবাদী এ অভিনেত্রী। টিভি নাটক নিয়ে যখন সবার মুখে হতাশার খই ফুটছে তখন বাঁধন বললেন, বিদেশি নাটকের সঙ্গে দেশি নাটককে তুলনা না করে আমাদের নেতিবাচক মানসিকতা পরিবর্তন দরকার। রাস্তা খারাপ, জ্যাম খারাপ, নাটক খারাপ! এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
‘দায়ভার’ নাটকে নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে শুটিং করলেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাটা জানতে চাই।
এর আগে চয়নিকা চৌধরীর নাটকে রাজ্জাক আংকেলের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। তবে রাজলক্ষী প্রোডাকশনের ব্যানারে এবারই প্রথম তার সঙ্গে কাজ করলাম। তাছাড়া তিনি সুস্থ হওয়ার পরও এটিই তার সঙ্গে প্রথম কাজ। একজন মানুষ অসুস্থ থাকলেও নিজেকেও তখন সেই জায়গায় মনে হয়। তিনি সুস্থ হয়ে শুটিংয়ে ফিরেছেন বিষয়টা অনেক ভালোলাগার। এই শরীরে শুটিং করতে প্রচন্ড মানসিক শক্তি দরকার। সেটা উনার আছে। প্রানশক্তি প্রচুর। শুটিংয়ে উনাকে দেখে মনেই হয়নি মাত্র কয়েকদিন আগে রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। প্রানখুলে হেসেছেন। কাজের ক্ষেত্রে পুত্র সম্রাটকে অনুপ্রানিত করেছেন। আমাকেও অনুপ্রানিত করেছেন।
নাটকে আপনার চরিত্রটা কেমন?
নাটকে আমি সম্রাট ভাইয়ের বউ। কেয়ারিং বউ। তবে গল্পে দেখা যাবে, সম্রাটের সঙ্গে তার বাবার (রাজ্জাক) সম্পর্ক ভালোনা। সম্রাট বাবাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। খারাপ আচরণ করে। কিন্তু শ্বশুড়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক ভালো।
এককের চেয়ে ধারাবাহিকে বেশি অভিনয় করছেন। কারণ কি?
মেয়েকে আমি অনেক ভালোবাসি। সবার আগে আমি ওর মা। ওর টেককেয়ারে কোন কমতি রাখতে চাইনা। একক নাটকে কাজ করলে অনেকসময় লেটনাইটে কাজ করতে হয়। মাঝ রাতেবাড়ি ফিরতে হয়। মেয়েকে সময় দিতে পারিনা। তাই এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর ধারাবাহিকে রাত আটটার মধ্যেই কাজ শেষ করে ফেলতে পারি। পরিবারকে সময় দিতে পারি।
সংসার ও অভিনয় দুটোই মেইনটেইন করছেন কিভাবে?
এটা চাইলেই সম্ভব। সন্তানের প্রতি দায়িত্বটা ঠিকঠাক মতো পালন করি। মেয়েটা সানবিমে পড়ে। রোজ সকালে তাকে স্কুলে ড্রপ করে কাজে বেরুই। ওর স্কুলের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও থাকি। মাসে পনের থেকে আঠারোদিন অভিনয় করি। যেটুকু পারি এটা নিয়েই আমি হ্যাপি।
এখনকার নাটকের মান কেমন দেখছেন?
অনেক ভালো নাটক হচ্ছে। আর এর ফাঁকে কিছু খারাপ নাটকও হচ্ছে। এটা নির্ভর করে কে কোন নাটকটা দেখছে। অনেকে টিভিতে একটা খারাপ নাটক দেখলো তারা সব নাটক নিয়েই একটা ধারণা পোষণ করে বসে যে, বাংলা নাটক ভালো হচ্ছেনা। অনেকেই আবার বাংলা নাটক না দেখেই নাটক নিয়ে সমালোচনা করে। যদি কেউ আমেরিকান সোপ ব্যবহার করে তাহলে তার কাছে বাংলাদেশী তিব্বত সাবান তো ভালো না লাগারই কথা। এটা মাথায় রাখতে হবে নাটকটা আমার দেশের। দেশটা আমার মায়ের মতো। আমরা দেশকে ভালোবাসি। দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে নাটক নিয়ে সবার মধ্যে ভালোবাসা থাকবে। দেশে দুই লাখ টাকায় নাটক তৈরী হয়। অথচ বাইরে অনেক আর্টিষ্টের পারিশ্রমিকই দুইলাখ টাকা। বাইরের নাটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে পজেটিভ চিন্তা করতে হবে। আমরা নেতিবাচক বোধ নিয়ে বসে আছি। রাস্তা খারাপ, জ্যাম খারাপ, নাটক খারাপ! এই জায়গা থেকে বেরুতে হবে।
এখন আপনার ব্যস্ততা কি নিয়ে?
‘এই কুলে আমি, ওই কুলে তুমি’, ‘তীরন্দাজ’, ‘মেঘের উপর মেঘ উঠেছে’, সহযাত্রীসহ আরো কয়েকটি সিরিয়ালের কাজ করছি। আর একমাত্র একক ‘দায়ভার’-এর শুটিংও তো শেষ হলো।
বড়পর্দায় আসার পরিকল্পনা আছে কিনা?
সবারই তো গোল থাকে বড়পর্দায় অভিনয় করার। কিন্তু আমি করতে পারছিনা। সংসার-বাচ্চা সামলিয়ে সিনেমা করাটা খুব টাফ। আর বাচ্চার হবার আগে পড়াশোনাকে বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছিলাম। তখনও ছবি করা হয়নি।

