ঢাকাSunday , 15 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৫

Link Copied!

bangladesh5স্পোর্টস ডেস্ক : টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুন বিপর্যয়েই পড়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানদের একের পর এক ব্যর্থতা, উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার কারণে, ৯ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে মাত্র ১৩৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছূড়তে পেরেছে বাংলাদেশ। উপেক্ষিত থাকা এনামুল হক বিজয় এক প্রান্ত আগলে ৪৭ রানের ইনিংস না খেললে যে বাংলাদেশের আজ কী হতো, তা বলাই এখন মুস্কিল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তই নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে, প্রথম কিংবা পওে ব্যাট করা নয়, দর্শক-সমর্থকরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল একাদশ দেশে। একাদশে ওপেনার তিনজন। তামিম ইকবাল তো আছেনই। সঙ্গে এনামুল হক বিজয় এবং ইমরুল কায়েস। তাহলে তামিমের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন কে?
অশেষে প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। তামিমের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামলেন ইমরুল কায়েসই। এনামুল হক বিজয়কে মাঠে নামানো হবে ওয়ান ডাউনে কিংবা আরও পরে। তবে আপাতত দুই বাঁ-হাতিকে দেখে গ্যালারিতেও স্বস্তি। কারণ, তামিম-ইমরুলের দুর্দান্ত এক জুটির ওপর ভর করেই শেষ ওয়ানডেতে জিতেছিল বাংলাদেশ। দু’জনই করেছিলেন সমান ৭৩ রান করে।
তবে প্রথম ওভারে জিম্বাবুয়ে পেসার তিনাশে পানিয়াঙ্গারা বেশ টাইট বোলিং করেছিলেন। প্রথম ৫ বল থেকে রান দিয়েছিলে মাত্র ১টি। বাউন্স এবং ফুল লেন্থ, স্লোয়ারে ব্যস্ত রাখে ব্যাটসম্যানদের। শেষ বলে গিয়ে একটি বাউন্ডারি হাঁকান ইমরুল কায়েস।
দ্বিতীয় ওভারও প্রায় একই। প্রথম ৫ বল থেকে একটি নো বলসহ ২ রান। ফ্রি হিট পেয়ে তামিম ইকবাল ওটাকে ছক্কায় পরিণত করেন। তৃতীয় ওভারে আর পানিয়াঙ্গারাকে ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। তৃতীয় বলেই মারলেন বাউন্ডারি।
এরপর একই ওভারের শেষ বলে আরও একটি বাউন্ডারি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ওভার বাউন্ডারি। এবার ছক্কা হাঁকালেন তামিম ইকবাল। মাদজিবাকে পেয়ে যেন নিজের ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছিলেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় বলে ২ রান নিলেও চতুর্থ বলে এসে সেই নিয়ন্ত্রণহীন শট খেলতে গিয়েই লং অফে একেবারে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন চিগুম্বুরার হাতে। ১৫ বলে ২১ রান করে ফিরলেন তামিম। প্রথম উইকেট পড়লো বাংলাদেশের।
তামিমের মত ইমরুল কায়েসও তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন। ৫ম ওভারের ৫ম বলে তেন্দাই চিসোরোর একটি বল ইমরুল কায়েস স্কয়ার ড্রাইভ করতে যান অফ সাইডে। কিন্তু তার বলটি উঠে গেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে শন উইলিয়ামস ক্যাচ লুফে নেন। তবে, আউট কি না সেটা নিশ্চিত হতে আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ারকে কল করেন।
অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষার পর থার্ড আম্পায়ারও ঘোষণা দিলেন এটা আউট। ১১ বলে ১০ রান করে ফেরেন ইমরুল। দলীয় রান তখন ৩৫। এরপর এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাধতে মাঠে নামেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুর্ভাগ্যক্রমে আউট হয়ে যান।
৯ম ওভারের প্রথম বলে গ্রায়েম ক্রেমারকে সুইপ করতে যান মুশফিক। একেবারে বাউন্ডারি লাইনে শন উইলিয়ামসের হাতে সহজ ক্যাচে পরিণত হন মুশফিক। ৮ বলে ৯ রান করে ফিরে যান তিনি। বাংলাদেশের রান এ সময় ৫৯।
মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার পর অনেক প্রত্যাশা ছিল সাব্বির রহমানের ওপর। প্রথম ম্যাচে তাকে খেলানো হয়েছিল তিন নম্বরে। এই ম্যাচে খেলানো হলো ৫ নম্বরে। দেখার চেষ্টা করা হলো তিনি কোন জায়গায় নিজেকে ফিট করাতে পারেন তিনি। কিন্তু দুই ম্যাচেই মোটামুটি ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন তিনি।
১৮ বল মোকাবেলায় ১৭ রান তোলেন সাব্বির। এরপরই গ্রায়েম ক্রেমারের একটি বল রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে প্যাডে লাগান তিনি। এরপরই জোরালো আপিল ওঠে। আম্পায়ারও আঙ্গুল তুলে দিলেন আম্পায়ার। এরপর এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাধেন নাসির হোসেন।
দু’জন মিলে ১৫ রানের জুটি গড়ার পর পানিয়াঙ্গারার উঁচু হয়ে আসা একটি বল খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান নাসির। সেই নবল গতি পরিবর্তণ করে সোজা আঘাত হানলো স্ট্যাম্পে। বোল্ড হয়ে গেলেন নাসির। ৫ বল খেলে রান করলেন মাত্র ৩। তার আউটে সত্যি সত্যি বিপদে পড়ে গেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং।
ব্যাটিংয়ে শেষ ভরসা হিসেবে মাঠে নামলেন মাহমদুল্লাহ রিয়াদ। মাঠে নেমেই পানিয়াঙ্গারাকে পর পর দুটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ওভারের শেষ বলেও শট খেলেন তিনি। কিন্তু কভার অঞ্চলে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন লুক জংউই। অসাধারণ একটি ক্যাচ ছিল সেটি।
এরপর এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাধেন মাশরাফি। আগের কয়েকটি ম্যাচের মত আশা ছিল কিছু রান করবেন মাশরাফি। কিন্তু নেভিল মাদজিভার বলে স্রেফ স্ট্যাম্পই উড়ে গেল মাশরাফির। ১ বল খেলে কোন রান করেই ফিরতে হলো মাশরাফিকে। ১২২ রানে পড়ে গেল বাংলাদেশের ৭ উইকেট। আক্ষরিক অর্থেই চরম ব্যটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।
এরপর এলেন আরাফাত সানি। উইকেট না থাকা সত্ত্বেও বেশ মারমুখি হয়ে খেলতে গেলেন তিনি। ১৯তম ওভারের শেষ বলে পানিয়াঙ্গারে খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে জংউইয়ের সহজ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। তার আগে ৮ বলে করেন ৫ রান। শেষ ওভারে উইকেটে তখনও ভরসার প্রতীক এনামুল হক বিজয়। কিন্তু ওভারের চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান তিনি। ৫১ বল মোকাবেলা করে ৪৭ রান করে আউট হন বিজয়।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে পানিয়াঙ্গারা ৩০ রান দিয়ে ৩টি, মাদজিভা এবং গ্রায়েম ক্রেমার নেন ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নেন চিসোরো।