চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে চট্টগ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রশাসনের নিরব ভূমিকার প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম শাখা।
বৃহস্পতিবার সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে এক প্রতিবাদী ছাত্রসমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ার দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘উচ্চ আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা আছে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত টাকার বেশি হতে পারবে না। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি বেসরকারি বিদ্যালয় তাদের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বহুগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনৈতকি কাজ অব্যাহত রাখলেও শিক্ষা বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ পরীক্ষার্থীরা গত ২ দিন নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয় হতে বেরিয়ে রাজপথে এসে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ জানালেও মাননীয় চেয়ারম্যানের এ বিষয়ে কর্ণপাত আমরা লক্ষ্য করিনি। একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের এমনতর দূর্দশা তার অনুধাবন না হওয়া সত্যি দু:খজনক। তাই নগর ছাত্রলীগের উক্ত কর্মসূচি থেকে মাননীয় চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আদালতের নির্দেশিত কাঠামোর বাইরে পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১ টাকাও দিয়ে ফরম পূরণ করবে না। ইতোপূর্বে ফরম ফি নেওয়ার নাম করে যারা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ‘একদিকে জননেত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষাবান্ধব সরকার আর অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কথিত কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের শিক্ষাক্ষেত্রে বাণিজ্যিকায়ন প্রচেষ্টা আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহ শিক্ষা বোর্ডের নিরব ভূমিকাকে পূঁজি করে ৫ থেকে ১০ গুণ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ফরম পূরণ করছে। যা আদালত অবমাননার সামিল এবং শেখ হাসিনার শিক্ষাবান্ধব সরকারের নৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।’
এ ছাত্রনেতা আরো বলেন, ‘ছাত্রদের অন্যতম যৌক্তিক ও মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে কোন শিক্ষক কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার মূল লক্ষে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অতিসত্বর পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের নামে আদায়কৃত অতিরিক্ত বিশাল অর্থ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষাবোর্ড কার্যালয় ঘেরাও, অবরোধের ন্যায় কঠিন কর্মসূচি দিতে ছাত্রলীগ বাধ্য হবে।’
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তালেব আলী, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নাঈম রনি, শাহীন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানী জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক। উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ বিন ফয়সাল, উপ সম্পাদক ইমরান কামাল বনি, এম. আর হৃদয়, শেখ সরফুদ্দিন সৌরভ, সহ-সম্পাদক আবদুল মান্নান রুবেল, সাব্বির সাকিব, রাহুল দাশ, সদস্য সালাহ উদ্দিন বাবু, আরাফাত রুবেল, মোশারফুল হক পাভেল, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রী কলেজের জি.এস আমিনুল করিম, ১৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মানিক, ওমরগণি এম.ই.এস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুর রহমান রিগ্যান, শফিকুল ইসলাম, শাকিল, রুবেল সরকার, নরুন নবী শাহেদ, শাহাদাত হোসেন পারভেজ, মো.রিজভী, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম হৃদয়, মোহাইমেনুল ইসলাম রাহিন, রেজাউল হাসান সবুজ, সাখাওয়াত হোসেন শিশির, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, জাহিদ হাসান সাইমুন, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ মহিউদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, বাকলিয়া শহিদ এ.এন.এম.এম জে ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আজমীর শাহ, রমজান আলী, ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা কুতুব উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান রোকন, মুজিবুর রহমান রাসেল, রবিউল ইসলাম খুকু, এম. ডি. মো. শাহজাদা, মো. বাপ্পী প্রমুখ।

