আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভারতের দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরোনো বিবাহরীতিকে বৈধতা দিয়েছে তামিল নাড়ু সরকার। প্রাচীন এই বিয়েতে কোনো পুরোহিত উপস্থিত থাকেন না। পুরোহিতকে ছাড়া বর কনে নিজেরাই অগ্নিকে সাক্ষী রেখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। মাদ্রাজ হাই কোর্টে ১৯৬৮ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের নতুন সংশোধনীতে এই বিয়ের রীতি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।
হিন্দু বিবাহ আইনের এই নতুন সংশোধনীর বিপরীতে আসুভাথামান নামের এক উকিলের দায়ের করা একটি পিআইএল ফাইল খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সেসময় আদালতের প্রথম বেঞ্চ প্রধান বিচারক সঞ্জয় কিশান কাউল এবং বিচারক টি সি সিভাংনানমের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। আদালত জানিয়েছে, ‘হিন্দু রীতি অনুযায়ী এর বিবাহরীতিতে ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রীতি অনুসরণ করা হয়।’
আদালত আরো জানিয়েছে,‘হিন্দু বিবাহ রীতির সেকশন ৭-এ ( ১৯৬৮ সালে তামিল নাড়ু সরকার কর্তৃক অর্ন্তভূক্ত) একটি ভিন্ন মাত্রার বিয়ে হচ্ছে ‘সুয়ামারিইয়াথি’ (আত্মমর্যাদা)। অর্থাৎ দুজন হিন্দু ছেলে মেয়ের মধ্যে বিয়ে। এক্ষেত্রে পুরোহিতের উপস্থিতি ছাড়াই বিয়ে সম্পন্ন হয়। আদালত জানিয়েছে, অর্ধ শতাব্দী পরে এটি এখন পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তামিল নাড়ু প্রদেশে ৪৭ বছর ধরে ‘সুয়ামারিইয়াথি’ বিয়ে একটি বৈধ বিবাহ প্রথা হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে কোনো ব্রাহ্মম পুরোহিত উপস্থিত থাকেন না। শুধু বিয়ের বর কনে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক দেয়। তবে এই বিষয়টি আইনে অন্তভূক্ত করা হয়েছে বলে অ্যাডভোকেট অসুভাথামান কিছুটা বিতর্ক করেন বলেন, ‘সপ্তপদী’ (আগুনকে স্বাক্ষী রেখে সাত পাকে ঘোরা) বিবাহ রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, ওই সংশোধনী রাজনৈতিক আন্দোলনকে দর্শনের মধ্যে আনতে চেয়েছে। তা মোটেও ঠিক নয়। তিনি আরো বলেন ‘সুয়ামারিউয়াথাই’ আর সব বিয়ের রীতির মত নয়। আর এ কারণে তাদের জন্য প্রদানকৃত সংশোধনী অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা উচিত।
দুজন হিন্দু নরনারীর মধ্যে বিয়ের বিষয়টিকে বৈধতা দিয়েছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাই। তিনি ১৯৬৭ সালে প্রথম এই বিয়েকে বৈধ হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। এর পরে ১৯৬৮ সালে হিন্দু বিবাহ সংশোধনী আইনে সেকশন ৭এ একে একটি আইন হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
ওই সংশোধনীকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে হাই কোর্ট জানিয়েছে, তামিল নাড়ুর নতুন সংযোজিত সংশোধনী ‘আত্মীয়, বন্ধু এবং অন্যান্য লোকজনের উপস্থিতিতে দুজন হিন্দু নরনারীর মধ্যে বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’ অর্থাৎ পুরোহিত ছাড়া বিয়ে বৈধ হবে তবে সেখানে অবশ্যই বর কনের যে কোন আত্মীয় বা বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে হবে।

